মারিও পুজো’র গডফাদার: গড নাকি ফাদার?

“আমি তাকে এমন এক অফার দিবো যে তার কাছে এই অফার গ্রহন করা ছাড়া দ্বিতীয় আর কোন পথ খোলা থাকবেনা”। –গডফাদার ভিটো কর্লিয়নি।

The expression “I am gonna make him an offer he can’t refuse”.

এই একটি লাইন আর একটি সিনেমা একটি সময়কে এতো বেশি প্রভাবিত করেছিল যে সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ সেই ডায়লগ এখনও মনে রেখেছে! এই একটি ডায়লগ একটি সিনেমাকে প্রায় কিংবদন্তি সিনেমায় পরিণত করেছে! দর্শকদের ভোটে এই ডায়লগটি সবর্কালের সেরা সিনেমার ডায়লগের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। ঠিক একইভাবে আরেক জায়গায় গডফাদার ভিটো বলেছে, “কখনও শত্রুকে ঘৃণা করবে না, তাহলে তা তোমার বিচারকে প্রভাবিত করবে”! আসলেই তো, শত্রুকে যদি আমরা আগে থেকেই ঘৃণা করি তাহলে তো আমাদের বিচার এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

ইতালিয়ানরা প্রায় সময়ই মজা করে বলে এই পৃথিবীতে একজন মানুষের প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা খুবই কঠিন কাজ, সেজন্য তাদের কে দেখভাল করার জন্য রয়েছে দুই পিতা: এক নিজের পিতা আরেক জন হলো গডফাদার! দুই পিতা একত্রে তাদেরকে রক্ষা করে। একটা ব্যাপার কি জানেন? কোথায় ইতালিয়ানদের সাথে ভারতীয়দের মিল আছে? একটি জায়গায় তারা প্রায় একই রকম! মিলের জায়গাটি আমি বলছি, ইতালিয়ানদের সাথে ভারতীয়দের খানিকটা মিল আছে যে, তারা রাষ্ট্রের থেকে পরিবার কে বেশি ভালোবাসে!

মারিও পুজোর গডফাদার পড়ে আমার মনে হয়েছে এটা কি কোন ঈশ্বরের গল্প নাকি কোন পিতার গল্প অথবা কোন ঈশ্বর পিতার গল্প আসলে কোনটা ?

আসলে কিছু গল্প এরকমই শত বিতর্কের পরেও থেকে যায় হৃদয়ের মাঝে। কিছু গল্পকে মনে হয় এতো কাছের, অন্তরের এতো কাছাকাছি যে একে ছেড়ে যাওয়া যাবে না! ‘গডফাদার’ আমার মনে হয় তেমনিই একটি উপন্যাস! এ উপন্যাসে গডফাদার ভিতোকে এরকমই মনে হয়েছে। আমরা একটা সময় সে গড এর মতোই প্রতাপশালী, কিছুক্ষণ পরেই সে তার সন্তানের জন্য পিতার মতো অসহায়! একটা সময় কিন্ত আপনার মনেও গডফাদারের জন্য সহানুভূতির জন্ম হবে, যখন আপনি শুনবেন গডফাদার ভিতো বলছে, আমি কেন কোন অচেনা আগন্তুক কে ভয় পেতে যাবো? আমার যখন বয়স ষোল তখন থেকেই অচেনা কোন এক আগন্তুক আমার দিকে ছুটে আসে, সব সময় আমাকে এই পৃথিবী থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য!

যারা ক্রাইম ফিকশন থ্রিলার পছন্দ করেন অথবা খানিকটা খোঁজ খবর রাখেন তারা মারিও পুজোর নাম শুনেনি এরকম হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবেনা। মারিও জিয়ানলুইগি পুজো (ইংরেজি: Mario Gianluigi Puzo; একজন ইতালীয়-আমেরিকান কথাসাহিত্যিক ও চিত্রনাট্যকার। এই ইতালিয়ান আমেরিকানের জন্ম ১৯২০ সালের অক্টোবর মাসে। সে মূলত বিখ্যাত তার ক্রাইম ফিকশন লেখার জন্য। তার প্রথম বই ‘গডফাদার (১৯৬৯)’ তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। পরে গডফাদার নিয়ে তিন পর্বের সিনেমাও হয়। তার শেষ বই ‘দ্যা ফ্যামিলি’ প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।

গডফাদার নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব সিনেমা হয় যথাক্রমে ১৯৭২ আর ১৯৭৪ সালে। ১৯৭৮ সালের সুপারম্যান ছবির চিত্রনাট্য তিনিই রচনা করেন। উপন্যাসের সময়ব্যপ্তি ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৫। ভিটো কর্লিয়নির প্রথম জীবনের স্মৃতিও এর অন্তর্ভুক্ত। ইতালীয় অপরাধ জগতের কিছু শব্দ, যেমন কনসিলিওরি (উপদেষ্টা), ক্যাপোরেজিমি (সহকারী), কসা নসত্রা (সিসিলিয় মাফিয়া), ওমার্তা (নীরবতার নিয়ম) প্রভৃতি এই উপন্যাসের মাধ্যমে ইংরেজিতে পরিচিত হয়। পুজো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন বিমান বাহিনীতে যোগ দেন এবং জার্মানীতে কর্মরত ছিলেন।

পরবর্তীকালে তিনি সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন একটি পত্রিকাতে। মারিও পুজো বেশ এক দরিদ্র পরিবারে জম্মগ্রহন করেন। তার লেখাতে এর প্রভাব পাওয়া যায়। নিউইয়র্ক সিটির কলেজ থেকে পাশ করার পর পুজো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন আমেরিকান আর্মির অফিসার হিসেবে। তার দৃষ্টিশক্তির ক্ষীণতার জন্য তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহন করতে পারেন না, তার বদলে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে। ১৯৫০ সালে পুজোর প্রথম ছোটগল্প ‘দি লাস্ট ক্রিস্টমাস’ আমেরিকান ভ্যানগার্ড পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

গডফাদার এর গল্পের শুরুতে দেখা যায় নিউইয়র্ক সিটির মাফিয়া বস ভিটো কর্লিয়নি মাদকসম্রাট ভার্জিল সলোৎসোর মাদক ব্যবসার প্রস্তাব নাকচ করে দেন। যার কারণে তাকে আততায়ী দ্বারা হত্যার চেষ্টা করা হয়। ভিটো কর্লিয়নি হত্যাচেষ্টায় বেঁচে গেলেও গভীরভাবে আহত হন। এমতাবস্তায় তার বড় ছেলে সনি পরিবারের দায়িত্বভার গ্রহণ করে। এরমধ্যে ছোট ছেলে মাইকেল ভার্জিল সলোৎসো এবং একজন পুলিশ ক্যাপ্টেনকে হত্যা করে, যার কারণে তাকে আমেরিকা ছেড়ে সিসিলিতে পালিয়ে যেতে হয়। মাইকেল আবার আমেরিকায় ফিরে আসে তার বড় ভাই সনির মৃত্যুর খবর পেয়ে। মাইকেলের প্রত্যাবর্তনের পর ভিটো কর্লিয়নি তাকে পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেন। মাইকেল পরিকল্পনা করে যে সে তার ব্যবসা লাসভেগাসে সরিয়ে নেবে। কিন্তু তার আগে সে অত্যন্ত গোপনে পরিকল্পনা করে পাঁচ পরিবারের কর্ণধারদের হত্যা করে, যারা কর্লিয়নি পরিবারকে নানাভাবে ক্ষতি করায় তৎপর ছিল। এছাড়াও পার্শ্বকাহিনী হিসেবে কর্লিয়নির মেয়ের নির্যাতিত বৈবাহিক জীবন, হলিউডে জনি ফন্টেনের সাফল্য, পারিবারিক ব্যবসায় ভিটোর দ্বিতীয় ছেলে ফ্রেডোর কাহিনি এসেছে। সমাজের ভেতর সমাজ আর রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্রের যে জগৎ সেই জগতের শক্তিকেন্দ্রে বসে সবার অলক্ষ্যে কলকাঠি নাড়েন গডফাদার।

বইটাতে যে শুধু ক্রাইম নিয়ে কথা আছে তা নয়, ছোট ছোট অনেকগুলো ব্যাপার এই বইটাতে উঠে এসেছে খুব নিখুঁতভাবে। যেমন, এক জয়গায় ভিটো কর্লিয়নি বলছেন, ‘আমি কোন অসতর্ক পথ বেছে নেই না। অসতর্ক পথ বেছে নেওয়ার অধিকার আছে শুধু নারীদের আর শিশুদের! সত্যিকারের পুরুষদের অসতর্ক পথ বেছে নেওয়া মানায় না’! এরকম আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘সত্যিকারের পুরুষ তার পরিবারের সাথে সময় কাটায় যা আমাদের প্রথাগত আইন ভঙ্গকারী গডফাদার মানেই নিষ্ঠুর এরকম ধারণার কত বিপরীত’!

এরকম ছোট কিছু লাইন দিয়ে এই বইতে অনেক বড় ধরনের ফিলোসফির কথা উঠে এসেছে ! যেমন এক জায়গায় ভিটো বলছে একজন আইনজীবী তার বিফ্রকেস দিয়ে অনেক বেশি টাকা ছিনিয়ে নিতে পারে একজন বন্ধুক হাতে নেওয়া লোকের চেয়ে! এটা আমাদের বিচার ব্যবস্থার অসামঞ্জস্যতাকেই প্রকাশ করে! তাই নয় কি?

আরেক জায়গা গডফাদার ভিটো কর্লিয়নির ছেলে মাইকেল কর্লিয়নি বলছে যে, ‘সে তার বাবাকে কখনও মৃত্যুর ব্যাপারে কথা বলতে দেখেনি! ভিতো কলির্য়নি মৃত্যুর ভয় পেতো না! কি অদ্ভুত সাহসী একজন মানুষ যে কীনা সারাক্ষণ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকে তারপরও সে মৃত্যকে ভয় পায় না’!

আমার কাছে গডফাদার বই এর শেষটা অনেক ভালো লেগেছে। একটা জায়গা তো হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। যখন ভিতো মারা যাচ্ছে মারা যাওয়ার আগে সে বলছে, ‘জীবন সুন্দর, খুব সুন্দর’! একজন গডফাদার যে সারাজীবন জীবন আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দোদূল্যমান থেকে কাটিয়ে দিলো সে তার মৃত্যের আগে বলছে ‘জীবন সুন্দর খুব সুন্দর’। সেটা আসলেই একটা ভাবনার বিষয়! যখন জীবনের এতো ভালো দিক দেখার পরও আমরা সব সময় আমাদের জীবন নিয়ে আফসোস করি!

জীবনের গভীরতা একটার পর একটা উঠে এসেছে পুজোর লেখায়। গডফাদার ভিটোর কাছের একজন মারা যাওয়ার সময় ভিটো সেই প্রিয়জনের খুব কাছে ছিল যে মারা যাবে। মারা যাওয়ার আগে সে গডফাদার ভিটো কে বলছে, ‘গডফাদার আমি কি ঈশ্বরের ক্ষমা পাবো? আমি যে এতো পাপ করেছি জীবনে সেসব পাপের ক্ষমা কি কখনো পাবো’! গডফাদার ভিটো কর্লিয়নি আশ্বাস দেন অবশ্যই সে ক্ষমা পাবে ।

‘তাকিয়ে দেখো, তোমার স্ত্রী আর সন্তানেরা একমনে তোমার জন্য প্রার্থনা করছে। এতগুলো মানুষের প্রার্থনা তো বিফলে যেতে পারে না’।

গল্পের আরো কয়েক জায়গায় ঈশ্বরের এর প্রতি এই অবিচল আস্থার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই। তাছাড়া এর প্রতিফলন আমরা দেখবো গডফাদারের স্ত্রীর চরিত্রের মাঝেও। জীবনের এতো নিমর্মতা তাকে ঈশ্বরের প্রতি অবিচল বিশ্বাস থেকে সরাতে পারেনা, রোজ তার সকল প্রার্থনায় সে ঈশ্বরকে জপে যায়! উপন্যাসের শেষে এটাও দেখা যায় যে সে মাইকেলের আত্মার শান্তির জন্য তার মাইকেলের স্ত্রী প্রার্থনা করছে যেমন করে ভিতোর জন্য তার স্ত্রী করতো! এরকম করে বংশানুক্রমিক ধারা বছরের পর বছর গডফাদার পরিবারে চলে!

বইটা পড়ার সময় একটা প্রশ্ন আমার প্রতিনিয়ত মনে জাগে মাইকেল কি পারবে তার পিতার মতো পরাক্রমশীল গডফাদার হতে?

এক সময় মাইকেল নিজেই বলে আমার পিতাকে বলে দিও আমি আসলে কিছুই না শুধু তার ছেলে হতে চেয়েছিলাম! মাইকেল একটা সহজ সরল জীবন যাপন করতে চেয়েছিল কিন্ত নিয়তি তাকে নিয়ে মনে হয় অন্য কিছুই পরিকল্পনা করেছিল! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ফেরত একজন মেডেলপ্রাপ্ত হিরো যার নিজের পিতার ব্যবসার প্রতি ছিল চরম অনীহা তাকেই নিয়তির দুর্বিপাকে যোগ দিতে হয়েছে মাফিয়াদের জগতে!

শুধু মাফিয়াদের জগত নয় হৃদয়গ্রাহী ভালোবাসার প্রতিফলনও আমরা পুরো বইটা জুড়ে দেখতে পাই। যেমন, এক জায়গায় মারিও পুজো বলছে: মাইকেলের স্ত্রী হচ্ছে পুরো পৃথিবীতে অদ্বিতীয় মানুষ যে তার ইচ্ছার বাহিরে গিয়ে গডফাদার মাইকেল কে দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারে!

কেটি পেরির “Thinking of You ”গানটির কথা মনে আছে –

যখন আপনি একদম পারফেক্ট কোন কিছুর খোঁজ পাবেন তখন আপনার জন্য তুলনা করা বেশ সহজ হয়ে যাবে! মাফিয়াদের নিয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে অনেক সিনেমা হয়েছে ভবিষ্যতে আরো হবে কিন্ত যতবার আপনি নতুন কোন গডফাদার কে দেখবেন ততবার আপনার পুরনো গডফাদার এর কথা অবশ্যই মনে পড়ে যাবে, আমার অন্তত তাই মনে হয়! প্রতিবার নতুন এক গডফাদার দেখার সময় আপনার মারিও পুজো’র গডফাদার এর কথা মনে পড়ে যাবে! কারণ মারিও পুজোর গডফাদার থেকেই তো প্রতিনিয়ত আরো গডফাদারের জম্ম হয়ে চলছে! তাই মারিও পুজোর গডফাদারকে নিঃসন্দেহে ক্লাসিক গডফাদার, ‘গডফাদার দের গডফাদার’ হিসেবে অভিহিত আমরা করতেই পারি !

আর হ্যা,

গডফাদার পড়া শেষ হলে গডফাদার সিনেমাটি দেখতে ভুলবেন না যেন! আল পাচিনোর অভিনয় নিশ্চয়ই আপনাকে মুগ্ধ করবে! ১৯৭২ সালে উপন্যাসটি অবলম্বনে দ্য গডফাদার  চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়, পরিচালনা করেন ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা এবং অভিনয় করেন ডন ভিটো কর্লিয়নি চরিত্রে মার্লোন ব্রান্ডো ও মাইকেল কর্লিয়নি চরিত্রে আল পাচিনো। মারিও পুজো চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য ও নির্মাণকাজে সাহায্য করেন। চলচ্চিত্রটি সারাবিশ্বে আনুমানিক ২৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে, পাশাপাশি জিতে নেয় অনেক পুরস্কার: তিনটি একাডেমি পুরস্কার, পাঁচটি গোল্ডেন গ্লোব ও একটি গ্র্যামি। চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসেও এটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রাখে। এর সিক্যুয়েল ‘দ্য গডফাদার-পার্ট ২’ পায় ছয়টি অস্কার এবং এটিই প্রথম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য একাডেমি পুরস্কার অর্জন করা সিক্যুয়েল চলচ্চিত্র।

শেষ করছি গডফাদার থেকে আমার খুব প্রিয় একটা উক্তি দিয়ে। আশা করি পাঠক আপনাদের ও ভালো লাগবে :

“এই পৃথিবীতে একটা সময় আসে প্রতিশোধের তখন পৃথিবীর অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী মানুষটিরও সবথেকে শক্তিশালী মানুষটির বিরুদ্ধে সুযোগ আসে প্রতিশোধ নেওয়ার!”

References :

1. “THE GODFATHER (18)”. British Board of Film Classification. May 31, 1996. Retrieved April 15, 2016.

2. “The Godfather (1972)”. Box Office Mojo. Retrieved December 6, 2014.

3. “The Godfather (Re-issue) (1997)”. Box Office Mojo. Retrieved December 20, 2014.

4. “”The Godfather” Turns 40″. CBS News. CBS Interactive Inc. March 15, 2012. Archived from the original on July 17, 2014. Retrieved July 15, 2014.

Related Posts

About The Author

Add Comment