বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাসের চল্লিশ লাখ লাইক, এ কারণে কেন “নাচে এ মন” বা প্রথম আলো ও এবম্প্রকার বিবিধ বিশ্লেষণ

সবিতা শারমিন

“যদি এ দেশের মানুষ শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করতে না পারে এবং তা যদি করতে হয় তাহলে এদেশের মানুষকে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”  – বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর মানবাধিকার-দর্শন, পৃষ্ঠা: ১২৬

“What is called globalization is really another name for the domination role of the United States.” – Henry Kissinger, Former U.S. Secretary of State
As quoted in Beyond Borders: Thinking Critically about Global Issues (2005)

চল্লিশ লাখ লাইক ও আমাদের মার্কিনমুখিতা

চল্লিশ লাখ লাইক নিয়ে বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস এখন পৃথিবীর সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া মার্কিন দূতাবাস।

চল্লিশ লাখ উদযাপন করতে মার্কিন দূতাবাস আমোদের চোটে ‘(আনন্দে) “নাচে এ মন”’ শিরোনামে একটি মিউজিক ভিডিও রিলিজ করেছে এবং তা বেশ শোরগোল ফেলেছে। প্রথম আলো সেই মিউজিক ভিডিও নিয়ে নিউজ করেছে এবং ভিডিওটি এখন পর্যন্ত আট লক্ষবার দর্শন করা হয়েছে, ছাপ্পান্ন হাজারের বেশি লাইক পরেছে, আট হাজারবার শেয়ার করা হয়েছে।

এই সংখ্যা কিসের ইঙ্গিত করে, এই মিউজিক ভিডিও কিসের ইঙ্গিত করে বা প্রথম আলোর নিউজ কিসের ইঙ্গিত করে এবং চল্লিশ লাখ জনতা কেন তাদের পেজ লাইক দিল, ও ছাপ্পান্ন হাজারের বেশি লোক কার আনন্দে ভিডিওটি লাইক দিল তা বিশ্লেষণ করার নিমিত্তেই এই নিবন্ধ রচনা।

প্রথমে আমরা সংখ্যা দিয়ে শুরু করি।

চল্লিশ লাখ পেজ লাইক, আট লাখ ভিডিও দর্শক প্রভৃতি সংখ্যা প্রথমত নির্দেশ করে বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এই দেশে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। ব্যবসাশাস্ত্রের ভাষায় ১৬ কোটি সম্ভাব্য ভোক্তা-ক্রেতা বাস করে এই দেশে। এই দেশে বিশাল এক জনশক্তি রয়েছে যা সুশাসন পেলে পৃথিবীর যে কোন শক্তিকে টেক্কা দিতে পারবে।

এখন প্রশ্ন হল বাংলাদেশের চেয়ে বেশি জনসংখ্যা তো আরো ৭টি দেশে। তো ওসব দেশে কেন মার্কিন দূতাবাস চল্লিশ লক্ষ লাইক পায় না? এবং তা কি ইঙ্গিত করে?

এটা নির্দেশ করে যে বাংলাদেশীদের মতো অন্যদেশের জনতা মার্কিনপ্রেমে মেতে নেই। তারা আমাদের মতো আমেরিকামুখী না।

তো আমরা কেন আমেরিকামুখী?

একটা প্রধান কারণ হল আমরা দেশ স্বাধীন করলেও এখনও উপনিবেশি মানসিকতা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারিনি, অন্য কোন দেশে আমাদের মতো মানসিক কোকাকলোনাইজেশন হয় নাই। 

আরেকটা কারণ অপশাসন বা অন্য কোন কারণে আমাদের দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা এতই খারাপ যে আমরা সবাই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপ্রসূত উদ্বাস্তুদের মতো মার্কিন মুলুককে সব পেয়েছির দেশ ভেবে মাইগ্রেট করতে চাই।

 তাই ১৩০ কোটির অধিক জনতার দেশ ভারত, চীনের মার্কিন এমব্যাসি ছাড়িয়ে আমাদের দূতাবাস, থুক্কু, বাংলাদেশস্থ আমেরিকার দূতাবাস বেশি লাইক পায়।

আধেয় কী বলে?

এখন আসি আমরা আধেয় নিয়ে কথা বলি। (আধেয় মানে কনটেন্ট।)* ভিডিওতে আমরা লক্ষ্য করি এক ধরণের উত্তরাধুনিক কার্নিভালেস্ক আবহ বিরাজমান, যেখানে আপাতভাবে আমাদের সমাজ-রাজনৈতিক সম্পর্কসমূহে আধিপত্য পরম্পরাগুলো সাস্পেন্ডেড, মানে খারিজকৃত অবস্থায় রয়েছে। টুপি পাঞ্জাবী পরিহিত দেখতে মাদ্রাসার ছাত্র মনে হওয়া বালক থেকে শুরু করে পুলিশ কন্সটেবল, ইয়াং ডিজুস ছেলেমেয়ে, তাহসান, মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট সবাই সমান তালে নাচতেছে; মাস্তি শুধু মাস্তি, কী মজা, কী ফুর্তি! মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট অবশ্য দূত হিসেবে সর্বদা কেন্দ্রেই থাকে।

এই আনন্দ তো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমেরিকার আনন্দ; এ উদযাপন তো সাম্রাজ্যবাদের উদযাপন।

তো এসব দেখে বাংলাদেশীরা কী ভাবে? প্রথমেই দর্শকের অবচেতন মনে বাংলাদেশ-আমেরিকার সংস্কৃতির বৈপরীত্য ফুটে ওঠে। বাংলাদেশীরা ভাবে আহা মার্কিন সংস্কৃতি কত উদার, কত মজাদার, কত ফ্রি! রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট কত সহজে সবার সাথে নাচতেছে। ছোট-বড় ভেদাভেদ নাই, কী ফুর্তি, কী মজা! আর বিপরীতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি কত অনুদার, এত বিধিনিষেধ, এত কর্তৃত্বপরায়ণ, এত অথোরিটারিয়ান! সো ইয়াং মেয়েরা ও ছেলেরা ধুমসে লাইক ও শেয়ার দিয়ে জাতে উঠতেছে যে আমিও উদার, আমিও ফ্রি। তারা কি জানে এই যে “আনন্দে নাচে এ মন”, এ আনন্দ কার আনন্দ? এই আনন্দ তো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমেরিকার আনন্দ; এ উদযাপন তো নব্যসাম্রাজ্যবাদের উদযাপন। অবশ্য ওরা জানে না যে এই আধিপত্য পরম্পরার খারিজকৃত অবস্থা ক্ষণিকের এবং তাতে স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জো নাই।

হ্যাঁ, এটাও স্বীকার করতে হবে যে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে সমাজ-রাজনৈতিক ক্ষমতাকাঠামোর আধিপত্য পরম্পরা খুবই কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়, না হলে খবর আছে। তাই, একজন বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত তো ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন আমরা যদি বার্নিকাটের মত নাচানাচি করতাম তাহলে তো চাকরি চলে যেত।

ওলন্দাজ সমাজ-মনোবিজ্ঞানী গার্ট হফস্টিডের সাংস্কৃতিক মাত্রাদি তত্ত্ব অনুযায়ী বলতে হয় এই উত্তরাধুনিক যুগে এসেও বাংলাদেশের সমাজে ক্ষমতা কাঠামোগত দূরত্বে ব্যবধান বিশাল আকারে রয়ে গেছে। যেটা সমাজে সুশাসন বা ন্যায়ের শাসনের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে। বিশ্বের অনেক দেশেই আজ ক্ষমতা কাঠামোগত দূরত্বে ব্যবধান অনেকাংশে ঘুচে যাচ্ছে। অথচ আমরা এখনও উপনিবেশি আমল কেন, সামন্ততন্ত্রের আমলে পরে রয়েছি।

বার্নিকাট ও টুপি পরিহিত দুই বালকের মুখ ভেংচি

মুখভেংচির বা বাঁকাবার দৃশ্যটি মিউজিক ভিডিওটির রাজনৈতিকভাবে সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মুখভেংচির বা বাঁকাবার একটি সার্বজনীন রাজনৈতিক তাৎপর্য আছে। সাধারণত তুলনামূলক ক্ষমতাধর অবস্থান থেকে মানুষ মুখ ভেংচি মারে বা বাঁকায়, অধিকাংশ সময়ই মুখ ভেংচি মারা হয় অবজ্ঞার্থে কিংবা তুচ্ছার্থে। আপনারা এই মুখ ভেংচির দৃশ্য পাবেন ঢালিউড, টালিউড,বলিউড থেকে শুরু করে হলিউডের মুভিতে। ভেংচি এক ধরণের প্রতিক্রিয়াশীলতাকে নির্দেশ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ইদানীং ভেংচি মহামারী আকার ধারণ করেছে; এখন স্মার্টফোনের অধিকারী যে কেউ ভেংচি কেটে ছবি তুলে শেয়ার দিতে পারে। আপাত হয়তো এইসব ভেংচির লক্ষ্য কোন ব্যক্তি নয়। তদাপি স্বীকার্য যে ভেংচির মর্মে তুচ্ছতা প্রকাশের কিংবা অবজ্ঞার মাধ্যমে স্বীয় আধিপত্য কায়েমের খায়েশ সুপ্ত থাকে। কাজেই ভেংচি এক ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিবিরোধী (anti-intellectual) প্রতিক্রিয়াশীল অশুভ প্রবণতা যার মাধ্যমে অপরের (other) ওপর অবজ্ঞা বা তুচ্ছতা প্রকাশ করা হয়।

বার্নিকাট ও টুপি পরিহিত দুই বালকের মুখ ভেংচি।

এখন আসি আমরা বার্নিকাট ও বালকদ্বয়ের ভেংচি প্রসঙ্গে। এই ভেংচি কি ডিজিটাল জামানার অন্তর্জালে ভ্রাম্যমাণ আর সব ভেংচির মতো লক্ষ্যহীন- উদ্দেশ্যহীন? এখানে অপর (other)  কে? আর আপনারা জানেন ইয়াংকি ইলেমদার হান্টিংটনের কেতাব সভ্যতার সংঘাত (দ্য ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন) অনুযায়ী পশ্চিমা সভ্যতার অপর ইসলাম।

আলোচ্য ভেংচিটি ধারণের পিছনে এই পূর্বানুমান রয়েছে বলা যায়। পূর্বানুমানটি হচ্ছে যে ভেংচি একটি পশ্চিমা জগতে জন্মানো ডিজিটাল ফেনোমেনন,  এবং টুপি পরিহিত মাদ্রাসার ছাত্ররা ভেংচি কাটতে অপারগ। (যদিও ভেংচি কিন্তু যে কেউই সমাজের আধিপত্য পরম্পরায় নিজের চেয়ে নিচে অবস্থানকারীকে দিতে পারে; তবে আলোচ্য ভেংচিতে ব্যাপারটি ভিন্ন)। তাই ভেংচির মাধ্যমে যেন বালকদ্বয়ের পশ্চিমারীতি অনুসারে সাংস্কৃতিক খৎনা করা হল। বার্তাটা এরকম যে মাদ্রাসা পড়ুয়ারা তেমন উগ্র নয়, তারাও ভেংচির মাধ্যমে পশ্চিমা জগতে জন্মানো ডিজিটাল সভ্যতায় শরিক হতে পারে। (অবশ্যই এও কাঙ্ক্ষিত যে মাদ্রাসার ছাত্ররা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হোক, উগ্রতার পথে পা না বাড়াক, এবং সাম্য, শান্তি, ও ভাতৃত্বের শিক্ষা পাক।)

কিন্তু আপত্তির জায়গা হচ্ছে আলাদা করে এই নির্দিষ্ট দৃশ্য চয়নে এবং এই দৃশ্যের পশ্চাতের পূর্বানুমানে। কারণ ভেংচি সার্বজনীনভাবেই এক ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিবিরোধী (anti-intellectual) প্রতিক্রিয়াশীল অশুভ প্রবণতা যার মাধ্যমে অপরকে অবজ্ঞা করা যায়, এবং এখানে স্মর্তব্য যে ভেংচি কাটলেও বালকদ্বয় যে অবহেলিত পশ্চাৎপদ শিক্ষার শিকার সে সত্য বদলায় না। হতে পারে তা রাষ্ট্রদূত হিসেবে বার্নিকাটের সাফল্যের স্মারক যে সে পেরেছে মাদ্রাসার ছাত্রদের পশ্চিমে উদ্ভূত ডিজিটাল সভ্যতার আলোকে আলোকিত করতে। (কিন্তু সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা, ইংরেজি মাধ্যম ইত্যাদি তো বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈরাজ্যের বহিঃপ্রকাশ, কিন্তু সেই নৈরাজ্য নৈরাজ্যই থাকে।)

প্রথম আলো, নব্যরাজাকার শ্রেণী, ও নব্যউপনিবেশবাদ

মার্কিন অর্জনে এরা নাচছে কেন? এরা নাচছে টাকার বিনিময়ে।

তো প্রথম আলো দু’মিনিটের মিউজিক ভিডিওর মতো এই তুচ্ছ জিনিস নিয়ে নিউজ করে কেন? বা অন্যরা নিউজ করে কেন?

একটা কারণ মিডিয়া জিনিসটাই এমন। জনগণ যা খায়, তাই খাওয়ায়। জনগণ পর্ন চায়, পর্ন দেয়। হিরো আলম খায়, হিরো আলম দেয়। জনতার ভিডিওসহ নারীদের বেইজ্জতি দেখার খায়েশ, নিউজ পোর্টালগুলো “মামা করলো ভাগ্নিকে ধর্ষণ ভিডিওসহ” টাইপ খবর ছাপায়।

আপনারা বলতে পারেন প্রথম আলোর তো আর পাঠকের অভাব নাই বা প্রথম আলো অশ্লীল না। হ্যাঁ, কথা বেঠিক না। তবে প্রথম আলোর মালিক কিন্তু ট্রান্সকম বা transcom। ট্রান্স/trans মানে সীমানা ছাড়িয়ে কম/com মানে কমার্স বা ব্যবসা। সহজ কথায় সীমানা ছাড়িয়ে ব্যবসা। ট্রান্সকম কী করে? ট্রান্সকম সীমানা ছাড়িয়ে ব্যবসা করে। মানে তারা আমদানির ব্যবসা করে। ট্রান্সকম বাংলাদেশে কমপ্রাডর ক্লাসের (যাদের খাসবাংলায় নব্যরাজাকার বলে) সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিত্বকারী।

বাংলাদেশে পেপসি, কে এফ সি, পিৎজা হাট ইত্যাদি ফ্রাঞ্চাইজ পরিচালনা করে ট্রান্সকম। তো এসবের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক কী? আপনারা সবাই জানেন এসবের মূলঘাটি, মানে শিকড় হল মার্কিন মুল্লুকে। বাংলাদেশের মানুষ যত আমেরিকামুখী হবে, এদের তত লাভ।

এই নারীও নাচছে টাকার বিনিময়ে। এদের সবার স্বার্থ জড়িত। কিন্তু লাইকারদের স্বার্থ কী?

আর জানেন তো বিশ্বখ্যাত মার্কিন পণ্ডিত নোয়াম চমস্কি এডওয়ার্ড হারমান সম্মতি উৎপাদন (ম্যানুফাকচারিং কনসেন্ট) গ্রন্থে বলেছেন মিডিয়া মূলত প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর সবচে’ বড় মাধ্যম। এরা প্রোপাগান্ডা ছড়ায় কাদের স্বার্থে? মালিকশ্রেণীর স্বার্থে, বিজ্ঞাপনদাতাদের স্বার্থে, রাষ্ট্রে ক্ষমতাসীনদের বা ক্ষমতালোভীদের স্বার্থে,  বা অন্যসব নানান শক্তিশালী সিন্ডিকেটের স্বার্থে মিডিয়া প্রোপাগান্ডা ছড়ায়ে জনতাকে কেওয়াস ছাড়া শাসিত হবার জন্য প্রস্তুত করে এবং সেই উদ্দেশে জনতার সম্মতি উৎপাদন করে।

তো চমস্কিদের এই প্রোপাগান্ডা মডেলে প্রথম আলোকে ফেলেন সব রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। প্রথম আলো বিদেশী নিউজ বা ভারতীয় নিউজ বেশি ছাপে কেন? কারণ ট্রান্সকমের তাতে ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত আছে। এই জন্য এদের বলতে হয় নব্যরাজাকার। এই নব্য-উপনিবেশবাদ বা নব্য-সাম্রাজ্যবাদের যুগে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে এক দেশ আরেক দেশের ভূমি আর দখল করে না; তারা বরং সংস্কৃতি, মিডিয়া ইত্যাদির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাজার দখল করে। আপনারা হয়তো জানেন বাংলাদেশের বাজার বাংলাদেশের দখলে নাই। সহজ উদাহরণ হল বাংলাদেশী একজন ক্রেতাকে একই মানের দুটি পণ্য দিলে দেশী পণ্য ছেড়ে সে বেশি দামে বিদেশী পণ্য কিনবে; এমনকি যদি দেশী পণ্যের মান বিদেশের চেয়ে বেশি হয়ও। আর তাই আজ ঢাকার সব সুপার শপ বিদেশী পণ্যে ছয়লাপ। যাইহোক, বাংলাদেশে এই নব্যসাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের সবচে’ বড় কোলাবরেটর প্রথম আলো। আর জানেন তো কোলাবরেটর মানে রাজাকার। তাই বলতে পারেন বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় নব্যরাজাকারশ্রেণীর প্রতিনিধি হল প্রথম আলো।

তাই বলতে হয় ভিডিওতে কথিত আনন্দ কোনভাবেই জনতার আনন্দ হতে পারে না। এই আনন্দ নব্যসাম্রাজ্যবাদী মার্কিনশক্তি ও তার তাবেদার নব্যরাজাকারশ্রেণীদের আনন্দ, এবং প্রথম আলোর আনন্দও বটে যেহেতু নব্যরাজাকারদের মালিকানাধীন পত্রিকা। এ ঘটনায় বাংলাদেশী কারো যদি “বেদনায় কাঁদে এ মন” অবস্থা না হয় তার দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ তোলা যায়।

বি.দ্র. প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকের স্ত্রী মেরিনা ইয়াসমিন কিন্তু আমেরিকান এমব্যাসিতে কাজ করে। মানে ওই সাম্রাজ্যবাদী, রাজাকার, মীরজাফর-গোলাম সব ওরাই ওরাই।

*আয়রনিটা হল আজকালকার ছেলে মেয়েরা ভালো ইংরেজি না জানলেও কনটেন্ট বুঝে মাগার আধেয় বুঝে না। আয়নাবাজির প্রোডাকশান হাউজের নাম তাই কনটেন্ট ম্যাটার্স।

 

সবিতা শারমিন,

নারীবাদী সাহিত্যিক,  সমাজ-রাজনীতি-ও-জনসংস্কৃতি বিষয়ক গবেষক।

যোগাযোগে [email protected]

০১-০১-১৭

Related Posts

About The Author

Add Comment