মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচনাবলী

বই: মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচনাবলী

সম্পাদনা: সৈয়দ আবুল মকসুদ

মোতাহের হোসেন চৌধুরী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন নিভৃতচারী সাধক । নিজেকে সাহিত্য সমাজে পরিচয় করানোর প্রয়াস দেখাননি । তাই তো জীবদ্দশায় কোন গ্রন্থ প্রকাশ করেননি । সাহিত্য সমাজে তার দাপট ছিল না , ছিল না অনন্যসাধারণ মেধা । কিন্তু ছিল সাহিত্য ধ্যান ।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচনাবলী লেখকের বিভিন্ন প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত বিষয়ের সংকলন হিসেবে ১৯৯৫ সালে বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয় । বইটি সৈয়দ আবুল মকসুদ সম্পাদনা করেন ।

বইটির উল্লেখযোগ্য কিছু ভাগ রয়েছে যেমন – সংস্কৃতি কথা ,সভ্যতা,সুখ,অগ্রন্থিত কবিতা,অগ্রন্থিত গান,অগ্রন্থিত রচনা,এবং অপ্রকাশিত রচনা ।

সংস্কৃতি নিয়ে মোতাহের হোসেন বলেন “পণ্ডিতেরা সংস্কৃতির বিভিন্নতা নিয়ে বড়াই করতে পারেন, কিন্তু পকৃতপক্ষে এক ও অবিভাজ্য । আগুন জ্বালানো আসল কথা ; কোন কাঠে আগুন জ্বললো সেদিকে না তাকালেও চলে । তবুও আমরা তাকাই কারণ অহংপ্রিতি ”।  সংস্কৃতি ও ধর্মের ভারসাম্য বিধানের মাধ্যমে মানুষের পূর্ণ বিকাশের পথ উন্মোচন হতে পারে ।

ব্যর্থতা জিন্দাবাদ :

বইয়ের এই অংশটি আন্দোলিত করতে পারে পাঠকদের । বৃদ্ধ ও তরুণ উভয়েই নিজের ইচ্ছে মত কাজ করার এমনকি ভুল করার অধিকার থাকা চাই, নইলে সমাজে প্রাণদৈনের অবধি থাকে না । আমাদের চিন্তার দুর্বল অবস্থা , সমাজের নানা ভঙ্গুর অবস্থার অন্যতম কারণ দেশে ব্যর্থ লোকের অভাব আছে । এই ব্যর্থতা সাধারণ অর্থে ব্যবহার হয়নি । সত্য সুন্দর বা কাল্পনিক কল্পনার ফলে যে ব্যর্থতার আবির্ভাব হয় সে ব্যর্থতার কথা । সাধনার বাইরের দিক ব্যর্থ হলেও ভেতরের দিক কোন দিন ব্যর্থ হয়না । বামন হয়ে যারা চাঁদের দিকে হাত বাড়ায় চাঁদের আলো কিছু না কিছু লেগেই থাকে চাঁদকে তারা হয়তো পায়না , কিন্তু আলোকে পায়

বইটির শক্তির দিক হল প্রত্যেকটা বিষয় গভীর ও সুক্ষভাবে বর্ণিত হয়েছে । ব্যক্তি জীবন ,সমাজ জীবন ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলকপাত করা হয়ছে । আমরা একটা রাষ্ট্রের অধিবাসী হয়েও কীভাবে সমগ্র বিশ্বের সাথে চিন্তার দিক এগিয়ে যেতে পারি , চিন্তাবিদদের লেখার এসব দিক উতসাহিত না করে পারে না  ।

তার কথা শুধু মাত্র যারা স্বপ্ন দেখতে পারে তাদের জন্য ,যারা দুপুরে ভাত খেয়ে না ঘুমিয়ে পারে না তাদের জন্য নয় ।

Related Posts

About The Author

Add Comment