মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘রাফকাট’

raf-1

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ভেতর ও বাহিরটা বুঝার জন্য ‘রাফকাট’ বইটি কাজে আসবে নিঃসন্দেহে। গতকাল শুরু করে আজ সকালে এসে শেষ হলো এই ঢাউস সাইজের বইটি। আমাদের সময়ের মিডিয়া ও ফিল্ম জগতের শ্রেষ্ঠ সন্তানটিকে জানা, তার সংগ্রাম এবং স্বপ্নের সাথে পরিচিত হওয়া বেশ উপভোগ্য ঘটনা। বইটিতে রয়েছে ফারুকীর একটি দীর্ঘ সাক্ষাতকার, কিছু কবিতা, একটি ছোট গল্প, কয়েকটি প্রবন্ধ এবং তার অনেকগুলো ছবি। সাক্ষাতকার নিয়েছেন সাংবাদিক সাজ্জাদ হুসাইন। বইটি ‘ঐতিহ্য’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।সমকালের বড় শিল্পীদের অনেক সময়ই চিনতে ভুল করা হয়। এটা ঘটে সমকালকে ছাপিয়ে ব্যক্তির অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার কারণে। আবার প্রস্তুত সময় তার শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের বরমাল্য দিয়ে ভূষিত করতেও সমর্থ হয়। শিল্প-সাহিত্যের ইতিহাসে আমরা দুটিই দেখি। কেউ কেউ তার সময়েই তার অবস্থান ঘোষণা করে যেতে পেরেছেন। আবার কারো কারো কাজ উপযুক্ত অডিয়েন্স পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সাথে সাথে এটা আমাদেরও সৌভাগ্য তিনি তার সময়ে, আমাদের সময়ে তার অবস্থান শক্তভাবে জানাতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের সিনেমা জগতকে দেশীয় পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার পাইওনিয়ার হিসেবে তাকে শ্রদ্ধার আসনে রাখবে বর্তমান ও ভবিষ্যতের নির্মাতারা।

বলতে কেমন শুনায় আমি মাত্র গতবছর মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রায় সবগুলো সিনেমা দেখে শেষ করেছি! টিভি নাটক সবগুলো না দেখলেও কয়েকটা দেখেছি। কিন্তু পুরো ছবি একটাও দেখার সৌভাগ্য হয়নি। গতবছর তার কিছু ইন্টারভ্যু পড়ে ছবিগুলোর দিকে বেশ আগ্রহী হলাম। প্রত্যেকটা ছবিই আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে এবং একেকটা থেকে অন্যটাতে যাওয়ার মাঝখানে যে বাংলা সিনেমার উন্নতি সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনুশোচনা বলবো না কারণ জীবনে কোন অনুশোচনা রাখতে চাই না তবে একটু কষ্ট ছিল যে পত্রিকার সমালোচনা বা রিভিয়্যু পড়ে অপিনিয়ন তৈরি করে রাখা নিঃসন্দেহে বড় ভুল ছিল। এ ভুল কাটিয়ে উঠতে পেরেছি বলে মনে করছি। যা দেখবো নিজের চক্ষু-মন দিয়ে দেখবো, যা বলবো নিজের চিন্তা দিয়েই বলবো।

ফারুকীর একটা ছোট্ট কবিতা আমার বেশ ভালো লেগেছে। কবিতাটির নাম ‘প্রতিধ্বনি’। কথাগুলো হচ্ছে এমন-

আমি বলি

‘একটা প্রেম দাও।’

প্রতিধ্বনি ফিরে আসে

‘একটা ফ্রেম দাও।’

ফ্রেমের সাথে তার প্রেমের সাক্ষর যেন এই ছোট্ট কবিতাটি। তিনি তার এ সম্পর্কে অটল থাকুন আমাদের এই প্রত্যাশা।

তার একটি কবিতা ‘ভাত-কাক সম্পর্ক’ পাঠককে ভাবাবে। নারী-পুরুষের সম্পর্ককে ভাত-কাকের সম্পর্কের সাথে মেশানোর মেটাফরটা আকর্ষনীয় হয়েছে।

ফারুকীর চোখ-মুখ যীশু খ্রিস্টের মতো। কথা বলেছেনও যীশুর মতো অনেক উদাহরণ দিয়ে, প্যারাবল মিশিয়ে, সমাজের সচল ভাষায়-প্রমিত নামী কোন অচল ভাষায় নয়। ভাষা নিয়ে তার সরল কথা-‘ভাষা কোন স্মৃতিসৌধের বেদির মতো অটল এবং স্থির নয়। ভাষা বহতা নদীর মতো-’

বইয়ের ব্যাক কভারে লেখা- ‘এই বইয়ে তাঁর শৈশব, কর্ম, কর্ম প্রেরণা, প্রেম, দাম্পত্য জীবন, রাজনৈতিকতাবোধ, ধর্মদর্শন, ভাষাতাত্ত্বিক বিতর্কসহ ব্যক্তিচরিত্রের বিভিন্ন দিক প্রতিফলিত হয়েছে।’

পড়া শেষ করে যথার্থই মনে হলো।

Related Posts

About The Author

Add Comment