যুদ্ধবিরোধী বই : সমরেশ মজুমদারের আত্মপক্ষ

পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত এক গ্রাম শিবচরণপুরের ছেলে গগন কলকাতায় থেকে ড্রাইভারের চাকরি করে। এই গ্রামের লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সময় কলকাতায় থাকা লোক সে-ই!

 

ছুটিতে গ্রামে ফিরে গিয়ে জানতে পারল এক ধনী ব্যক্তি মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের কাছে জমি বিক্রির জন্য গ্রামের লোকদের চাপ দিচ্ছে। পঞ্চায়েত প্রধানও একই কাজ করছে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ তাদের কথায় জমি বিক্রি শুরু করেছে।

 

গগন কলকাতায় ফিরে তার মালিকের পাশের বাড়ির এক সাংবাদিকের কাছে জানতে পারে যে, সরকার শিবচরণপুরে শিল্প তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আর, মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে অল্প দামে গ্রামের জমি কিনে নিচ্ছে, পরবর্তীতে সরকারের কাছে বেশী দামে বিক্রি করে লাভ করবে বলে।

Mk69590356457

এই খবর গ্রামে পৌঁছাতে দেরি হলো না। শুরু হল সরকার বিরোধী আন্দোলন। ত্রিশ বছর ধরে শাসনক্ষমতায় থাকা পার্টির লোকদের বিরুদ্ধে বিরোধী দল আন্দোলন শুরু করলো।

 

গ্রামের নিতান্তই নিরীহ লোকগুলোকে বোঝানো হল জমি বিক্রি করা যাবে না। আর, অপরপক্ষ বলল, জমি বিক্রি করতে হবে। ফলে, জমি রক্ষা আন্দোলনের নামে ভাতৃঘাতী সংঘাতে জড়িয়ে পড়লো সাধারণ মানুষ। এই সংঘাতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে আন্দোলন অগ্নিগর্ভ রূপ ধারণ করে।

 

সাধারণ মানুষকে নিয়ে নোংরা রাজনৈতিক খেলায় মেতে ওঠলো ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদরা। শান্তিপ্রিয় শিবচরণপুর গ্রামের যুদ্ধে প্রাণ গেল গ্রামের মানুষের।

 

এই বইয়ে যে চরিত্রগুলো বেশী করে ফোকাস করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে গগণ, গোবর্ধন, যদুনাথ, যতীন, কার্তিক, কুসুম, বন্যা, গগনের মা, বিকাশ বেশী লক্ষণীয়।

 

এছাড়াও, পুরো গল্পটিতে বরেণ্য লেখক সমরেশ মজুমদার যে মেসেজটি দিতে চেয়েছেন, সেটি হচ্ছে : “কিসের যুদ্ধ? কাদের জন্য যুদ্ধ?” অর্থাৎ, যুদ্ধ মানেই সাধারণ মানুষের প্রাণহানি, যুদ্ধ মানেই ধ্বংস। যুদ্ধ কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না।

 

Related Posts

About The Author

Add Comment