রহস্যের সন্ধানে ‘দ্য ভিঞ্চি কোড’

বিখ্যাত থ্রিলার ঔপন্যাসিক ড্যান ব্রাউন ‘দ্য ভিঞ্চি কোড’ এর জন্য সবচেয়ে বেশী পরিচিত। সিম্বল, কোড ব্রেকিং, গোপন সংঘ, ষড়তন্ত্র তত্ত্বের মিশেল- তাঁর বইগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য যা কিনা পাঠককূলকে সহজেই আকৃষ্ট করে। তাঁর লেখনির এমনই শক্তি যার ফলে পুরো বই পড়া শেষ না করা পর্যন্ত মনে শান্তি পাওয়া যায়না। তার রচিত ‘দ্য ভিঞ্চি কোড’ তেমনি একটি বই। ২০০৩ সালে প্রকাশিত ও বইটি বিশ্বজুড়ে ‘বেস্টসেলার’ হয় এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৮০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। বইটি প্রায় ৪৫টি ভাষায় অনূদিত হয়।

বইটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এর ধর্মীয় প্রতীক বিদ্যার অধ্যাপক রবার্ট ল্যাংডন ও সোফি নেভুর প্যারিস এর ল্যুভর জাদুঘরে ঘটে যাওয়া একটি খুনের ঘটনার তদন্ত নিয়ে। গল্পের শুরতে দেখা যায় প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামের কিউরেটরের বিভৎসভাবে মৃত্যু হয়। কিন্তু তার ভেতরেও থেকে যায় রহস্য। অদ্ভুতভাবে একধরণের চিহ্ন রেখে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বোকা বনে যায় পুলিশ। ঘটনাচক্রে মৃত্যুটির সাথে জড়িয়ে পড়েন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সিম্বলজির প্রসেফর রবার্ট ল্যাংডন। প্রচ্ছন্নভাবে খুনের দায় গিয়ে পড়ে তার উপর। সাহায্য করতে এগিয়ে আসে একজন মহিলা পুলিশ। তারপর শুরু হয় অভিযান। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার অভিযান। আস্তে আস্তে কিছু আশ্চর্য সত্যের সম্মুখিত হতে থাকে ল্যাংডন। বেরিয়ে আসে কিছু সত্য যা আগে কেউ জানতো না। ফলে চরম এক ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে পড়ে সে।

গল্পের পরবর্তী অংশে দেখা যায় হাজার বছরের একটি সিক্রেট লুকিয়ে ছিল একটি গুপ্তসংঘ গোষ্ঠীর কাছে। সে গুপ্তসংঘের সিক্রেট লালন করে আসছেন লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, আইজ্যাক নিউটন, ভিক্টর হুগো, বত্তিচেল্লীর মত জগদ্বিখ্যাত ব্যক্তিরা। কালক্রমে এই গুপ্তসংঘের মাত্র চারজন মানুষ এর কাছে ছিল এ সিক্রেটটি লুকোনো। কিন্তু সিক্রেটটি প্রকাশ করার দাবিতে ঐ একই খুনির হাতে তারা সবাই একসাথে এক রাতে খুন। খুন হওয়ার আগে এক সিক্রেট রক্ষাকারী সিক্রেটটি হস্তান্তর করে যান তারই বংশধরের কাছে। সিক্রেট টি সরাসরি কারো হাতে তুলে দেওয়া হয়নি, দেওয়া হয়েছিল সূত্র, গোলকধাঁধা, সিক্রেটটিতে পৌঁছনোর জন্য। কেনই বা হাজার বছর ধরে একটি সিক্রেট সোসাইটি সেই সত্যকে সঙ্গোপনে লালন করে আসছে, সিক্রেট হস্তান্তরের মাধ্যমটি নিয়েই আবর্তিত হতে থাকে কাহিনি। ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়েন একজন সিম্বলজিস্ট, মূলত যাকে ঘটনায় ইচ্ছাবশতই জড়িয়েছিলেন স্বয়ং খুনের শিকার চার জনের মাঝে একজন। সিম্বলজিস্ট এবং যাকে সিক্রেট হস্তান্তর করা হয় তারা দুজন মিলেই ইতিহাস, ক্রিপ্টোগ্রাফি, এবং আরো নানারকম কোডব্রেকিং মাধ্যমে বিপুল বাধা বিঘ্নের মধ্য দিয়ে পৌঁছতে থাকেন সিক্রেট উদঘাটনের দাড়প্রান্তে। শেষ পর্যন্ত, সেই সত্যটা কী—আর পৃথিবীবাসী কি সেই সত্যটা জানতে পেরেছিলো তারই উত্তর নিহিত আছে দ্য ভিঞ্চি কোড-এ।

শ্বাসরুদ্ধকর ও নাড়িস্পন্দন বাড়িয়ে দেওয়া এ বইটি পড়ে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ‘দ্য লাস্ট সাপার’, ‘মোনালিসা’ সহ যে শিল্পকর্ম, স্থাপত্যশৈলী, ইতিহাস, দলিল-দস্তাবেজ আর গুপ্ত-ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের বিবরণ পাওয়া যায় তা সত্যিই অতুলনীয়। উপন্যাসটিতে দেখানো সোফি নেভু যীশুর রক্ত ধারনকারী ম্যারি ম্যাগদ্যলিনের প্রতিনিধিস্বরূপ। উপন্যাসে বর্ণিত হলি গ্রেইল সম্পর্কিত লুকায়িত তথ্যাদি যেগুলো প্রায়রি অব সাইওন রক্ষা করে আসছিল সেগুলো হল বাইবেল বর্ণিত মেরি ও যীশুর রহস্য। ২০০৬ সালে বিখ্যাত এ উপন্যাসটির ওপর ভিত্তি করে অস্কার পুরস্কার বিজয়ী রন হাওয়ার্ডের পরিচালনায় মুভি নির্মান করা হয়।

পরিশেষে বলা যায় বইটি নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও প্রায়োরি অব সাইওন, ওপাস দ্যই, হলি গ্রেইল, ম্যারি মাগদ্যলিন, ক্রিপ্টোলজি সব মিলিয়ে চমৎকার একটি থ্রিলার ‘দ্য ভিঞ্চি কোড’।

 

Related Posts

About The Author

Add Comment