রেঁবোর সাথে আবার মোলাকাত!

যার প্রেমে পড়ি তার থেকে দূরে থাকি। কাছে থাকলে দেখা যায় তার দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়ে যাই। এজন্য তার থেকে দূরে থাকা আমার স্বভাবের অংশ হয়ে গেছে। অথবা বলা যায় প্রেমকে টেরাই করার চেষ্টা করি, কেমন শক্ত বা কেমন ঠুনকো!
 
চার-পাঁচ বছর আগে যখন বেশ বাংলা কবিতা লিখতাম তখন দেখে কেমন যেন লাগতো যখন দেখতাম সেখানে রেঁবোর বেশ প্রভাব। নরক নিয়েই লেখা হয়েছিল বেশ কয়েকটি কবিতা। বুঝাই যাচ্ছে রেঁবোর ‘নরকে এক ঋতু’র ভয়ানক প্রভাব! আমার কবিতায় এমিলি ডিকিনসন, কাহলিল জিবরান আর টিএস এলিয়টসহ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে রেঁবোর! এজন্য একচেটিয়া প্রভাব থেকে দূরে থাকার জন্য দীর্ঘ বিচ্ছেদ।
 
গতকাল প্রিয় শিক্ষক শিশির ভট্টাচার্য্যের সাথে ঘন্টাখানেকের আড্ডায় অনেক কিছু শিখেছি। জেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছি ভালো অনুবাদের বেসিক সূত্র। বাংলায় কোন মহাভারত, রামায়ণ পড়বো তার সাজেশনে রাজশেখর বসুরটা ফলো করার পরামর্শ মনে থাকবে। ফকিরাপুল থেকে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে আসার পথে রিকশা ভ্রমণটা বানিয়ে ফেলেছিলাম আমার ক্লাসরুম। শিশির ভট্টাচার্য্য শিক্ষকের সবগুলো ধর্ম মেনে চলা একজন পণ্ডিত। বিভিন্ন বিষয়ে জানাশুনা তার। তরুণ বিদ্যার্থীকে জানার পথে উসকে দেওয়ার বড় কারিগর।
 
রেঁবোর কিছু কবিতা ও পত্রাবলী অনেক আগে অনুবাদ করেছিলেন। নিজ থেকেই প্রস্তাব করলেন আমাকে এক কপি দেবেন। আমি এটা না নিয়ে যাই কোথায়? কিছু কিছু বই সংগ্রহ করতে পারলে নিজেকে বেশ ধনী ধনী লাগে। এই যেমন শিশির ভট্টাচার্য্যের অনূদিত ‘রেঁবোর নির্বাচিত কবিতা ও পত্রাবলি’ এমন একটি বই।
 
রাতে কবিতার বকবকানি শেষে আমার মাথার পাশেই রেঁবো ঘুমিয়েছেন। ঘুম থেকে উঠেও দেখি রেঁবো পাশে আছেন। তাকে বেশ খুটিয়ে খাটিয়ে পড়ার চেষ্টা করলাম। পুরনো প্রেমকে নতুন করে আলো দিলাম! আমার মনের ঘর দেখি রেঁবোর কবিতায় শোভিত!
পাঠকের ডায়রী
২২ এপ্রিল, ২০১৬

Related Posts

About The Author

Add Comment