রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোথায় কোথায় ছাড় দেওয়া হবে তা হিসেব করতে হবে

বার্মার শাসকদের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, তার ছাড় দিতে চায়না। এই জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে, কোথায় কোথায় ছাড় দিতে হবে।
গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের ১০৫ তম পাবলিক লেকচারে বক্তারা একথা বলেন। পাবলিক লেকচারের বিষয় নির্ধারণ করা হয় ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা: নির্মম অতীত এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যত’

পাবলিক লেকচারে অনলাইন পোর্টাল পরিবর্তন ডট কম-এর ডেপুটি চিফ এডিটর বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. কাজল রশিদ শাহিন রোহিঙ্গাদের অতীত ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, মায়ানমারের ইহিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মায়ানমার অসাম্প্রদায়িক কোনো শাসক আসেনি, অথচ বাংলাদেশে অশোকের মতো অসাম্প্রদায়িক রাজা ছিলেন। তাই বার্মাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা সবসময় লক্ষ করা যায়।
এসময় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুটি সহজ নয় উল্লেখ করে বলেন, আরাকান এলাকাটি খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ। এই জন্য বিশ্বের সুপার পাওয়ারদের এই এলাকার প্রতি আগ্রহ আছে। এই জন্য বিশ্বের মোড়লরা রোহিঙ্গাদের ভাগ্যউন্নয়নের জন্য কাজ না করলেও ঠিকই তাদের ওই এলাকার প্রতি মনোযোগ রাখছে।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে উল্লেখ করে বলেন, আরাকান প্রায় ৩৬ হাজার বর্গমাইল। অথচ এলাকার আয়তনের চেয়ে জনসংখ্যা কম। বর্তমানে মায়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা বেশি।বার্মার শাসকদের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, তার ছাড় দিতে চায়না। এই জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে, কোথায় কোথায় ছাড় দিতে হবে।

নেপালের কূটনীতি ডট কমের চিফ এডিটর ডাম্বার ভট্র বলেন, হাজার হাজার প্রমাণ আছে রোহিঙ্গারা আরকানের বাসিন্দা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থানে সবাই অবাক। অবশ্য বিজেপি নির্বাচনের সময় তাদের ইশতেহারে বলেছিলো ভারত হবে হিন্দুদের জন্য। বিশ্বের সকল মাইনরটি হিন্দুদের তারা রক্ষা করবে। অথচ তাদের উচিত ছিলো রোহিঙ্গার মতো এ মানবিক ইস্যুতে সমর্থন দেওয়া। এসময় তিনি বলেন, বিশ্বের বড়দেশগুলোর উচিত মায়ানমারের সেনাবাহিনীকে সকল ধরনের ট্রেনিং সহযোগীতা বন্ধ করে দেওয়া।

লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক জাকারিয়া পলাশ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষমতায় থাকলে, সংখ্যালঘিষ্ঠ দের অন্য কিছু ভাবে আর এই প্রবণতার কারনে সমস্যা বেড়েছে। এসময় তিনি বলেন বাংলাদেশ সরকারের এতো সক্ষমতা নেই এত মানুষকে গ্রহণ করা, তবুও সোসাইটির চাপে গ্রহণ করেছে। একসময় সোসাইটির এই আবেগ যেনো ঘৃণায় পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই এর সুষ্ঠ সমাধান গ্রহণ করতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির লেকচারার মো. আলাউদ্দিন বলেন, শরনার্থী আসবে এটা ইতিহাসের অংশ। এই সমস্যাটা মায়ানমারের বা আমাদের নয়। এসময় তিনি গতকাল জাতিসংঘে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘ বিএনপির সাথে আলোচনার কথা বলবেননা’ প্রধানমন্ত্রীর এমন উক্তি উল্লেখ করে বলেন, এত বড় একটি সমস্যা , দেশের ভিতরে একটা অংশকে বাদ দিয়ে সমাধান করতে গেলে এর সুষ্ঠ সমাধান হবেনা্।

লেকচারে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের সভাপতি এ এস এম ইউনুসের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাবিদিন ইবরাহীম সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

Related Posts

About The Author

Add Comment