রোহিঙ্গা লাগি এলিজি কিংবা একটি শব্দসেলফি

রোহিঙ্গা, দিয়ে গেলে তুমি মোরে একটি ছুতো কবিতা রচিবার

হৃদয়ে আমার বিধেনি শেল

যদিও নিউজফিডে ঢল নেমেছে রক্তমাখা থেতলানো লাশের

হৃদয়ে আমার বিধেনি শেল

তবুও হাইপে পেয়ে গাইছি আমি এই এলিজি

জানি এ নিতান্তই ক্যাকোফোনি

জাগাবে না সহানুভূতি কারো শুনিতে তোমার আর্তনাদ

 

যখন আমার প্রেমিকের সেরেনাদ মিশে যায় এই কাক ডাকা কর্কশ সন্ধ্যায় অগণন হর্নের শীৎকারে

আমি নিউজফিডে তোমাদের গলিত লাশের ছবি দেখি

ফিরিয়ে নিয়ে আঁখি ভাবি কোথায় মানবতা কোথায় অং সাং সুচি

 

কারুণ্য ছাপিয়ে যাপিত জীবনের হতাশা আমার শোণিতে শোণিতে শিশ দেয় রমিতে

আমার প্রেমিকের কামে শিশিরের শব্দের মতো শ্রান্তি শয়নে নামে আমার আযোনিমনন

আমার করোটির ভিতর তোমাদের ভাসন্ত ডিঙাগুলো এক এক করে ডুবে যায়

পাপবোধ আমাকে ছুয়ে যায় না

হয় না কোন অনুতাপ

আমার মননসাগরে এক সেল ফিশ ভক্ষণ করে তোমাদের গলিত লাশ

আমার অন্তর কাঁপে না

বরং আত্মরতির রাগমোচনে আমার ফেসবুকের টাইমলাইন ছেয়ে যায় সেলফিতে সেলফিতে

 

এই সমাজের দেহে আমি এক ক্যান্সার আক্রান্ত সেল

নাসিরনগর আমারে ছুঁয়ে যায় না

মহিমাগঞ্জ আমারে ছুঁয়ে যায় না

রোহিঙ্গা তুমি কি আমারে ছুঁয়ে গেলে?

কী কারণে ছুঁয়ে গেলে?

একি নিছকই কাকতাল?

তুমি আমার মাতাপিতার মালিকের ফলোয়ার?

 

রোহিঙ্গা তোমারে আমি হাগ দিতে পারবো কি পারবো না জানি না

ত্রাসে কাঁপে আমার টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া

আক্রোশে নখদংশনে খামচে খাই হায়েনার ন্যায় খালি যারা আমার মাতাপিতার খালিকরে ভয় পায় না

অথচ আকুল স্বরে জানতে চাই লালিমা-গায় নির্বাণসন্ধিৎসু ওরা কেন তোমারে খায় নৃশংস নখদংশনে

“আমরা অঙ্গার রক্ত শতাব্দীর অন্তহীন আগুনের ভিতর দাঁড়িয়ে”?*

 

আমার পাপবোধ অভেদ্য মননে রোহিঙ্গা তুমি ক্ষণিকের চলচ্চিত্র

আমার করোটির ভিতরে একটি সেল ফিশ নিরঙ্কুশ বিরাজে

তারে ছুঁয়ে যায় শুধু বেপর্দা ছায়াবাজি

আজকের আয়নাবাজির এই ভুবনে

রোহিঙ্গা তুমি শুধু একটি ছুতো কবিতা রচিবার

রোহিঙ্গা তুমি শুধু একটি ছুতো শব্দসেলফি তুলিবার

 

সবিতা শারমিন,

নারীবাদী সাহিত্যিক,  সমাজ-রাজনীতি-ও-জনসংস্কৃতি বিষয়ক গবেষক।

যোগাযোগে [email protected]

২৩ -১১-২০১৬

*”এইসব দিনরাত্রি“, জীবনানন্দ দাশ

Related Posts

About The Author

Add Comment