লাও ৎস এর ‘তাও তে চিং’

কিছু কিছু বই আছে যেগুলো শুধু একবার পড়ে নিস্তার নেই। বারবার পড়া উচিত। কিছু বই আছে একবার পড়লেই বুঝা হয়ে যায়। আবার কিছু বই আছে প্রত্যেক পাঠেই নতুন অর্থ নিয়ে হাজির হয়। প্রথম পাঠে অর্থ স্পষ্ট হয় না, বা যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয় তা অসম্পূর্ণ। এজন্য রিপিট করা আবশ্যক। আবার আপনার পছন্দের বই হিসেবে নিয়মিত হাতে চলে আসে সে বইটি।

লাও ৎস এর ‘তাও তে চিং’ এমন একটি বই। মাত্র ৫ হাজার চীনা শব্দের দ্বারা গঠিত এই নাতিদীর্ঘ বইটি দীর্ঘসময় ধরে চীন ও তার প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী বই হিসেবে পঠিত হয়ে আসছে। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে রচিত এই কাব্যটি তাওবাদের একটি মৌলিক কেতাব! কনফুসিয়াসের চিন্তার সাথে লাও ৎস বা লাও জু’র তাওবাদ চীনের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারী চিন্তা বা জীবণপ্রণালী! এটা একটি সহজিয়া পথের সন্ধান দেয়।

বাংলা ভাষায় এটি নিয়ে এসেছেন কবি সরকার আমিন। অত্যন্ত ভালোবাসা থেকে, বই হাতে পেয়ে বজ্রাহত হওয়ার অনুভূতি থেকে অনুবাদে হাত দেওয়ায় সেখানে সরকার আমিনের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার সাক্ষর পাওয়া যায়। এজন্য ভাষা ও ভাবগত দূরত্বের কারণে বুঝতে একটু আধটু কষ্ট হলেও স্বাদটা পাওয়া যায়।

চীন-জাপানের জেন দর্শন নিয়ে হালকা জানাশুনা না থাকলে তাদের জন্য এটা বুঝতে একটু কষ্ট হতে পারে। আর চীনা গুরুজন সবসময়ই অ্যালূসিভ ভাষায় কথা বলেন। কনফুসিয়াস থেকে শুরু করে লাও জু, সান জু-সবার ভাষারই অনেকগুলো মিনিং থাকে।

ভাষার অর্থ বুঝতে হলে এর গভীরে প্রবেশ করা ছাড়া উপায় নাই। এবং সারফেস মিনিং এর উপর জোর দিলেই চলবেনা। ডিপ কি মিনিং দিচ্ছে সেটা বুঝার চেষ্টা করতে হবে।

এজন্য একাধিকবার পড়ার প্রয়োজনীয়তা পড়ে। সরকার আমিনের বাংলা পড়ার সাথে সাথে ইংরেজিতে কয়েকটি অনুবাদ পড়ার ফলে বেশ ভালো করে লাও ৎস বা লাও জু’র অল্প কথার বিশাল জগতের সাথে পরিচয় হয়েছে। এবার পরিচয় পর্ব থেকে আত্মীয়তার পর্যায়ে যাওয়ার জন্য সম্পর্কটা আরও নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে আর কি!

Related Posts

About The Author

Add Comment