লেকচার রিভিয়্যু : ক্লাসিক বুক – ‘দ্য লিটল প্রিন্স’

বাংলাদেশ স্ট্যাডি ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচারের ৯৯ তম পর্বে আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হয় ‘আতোঁ দে সেইন্ট একঝুপেরি’ এর লেখা একটি ঐতিহাসিক ক্লাসিক বুক “দ্য লিটল প্রিন্স”। বইটি কে ঐতিহাসিক বলার বেশ কয়েকটি কারনও রয়েছে। ৯৯ তম পাবলিক লেকচারের সম্মানিত বক্তা বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক জনাব সাবিদিন ইব্রাহিম তার আলোচনার শুরুতেই  “দ্য লিটল প্রিন্স” ক্লাসিক বইটির বিশেষত্ব উপস্থিত শ্রোতামন্ডলীর সামনে তুলে ধরেন।

বক্তা : সাবিদিন ইব্রাহিম।

বইটির সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপনায় তিনি বলেন “দ্য লিটল প্রিন্স” বইটি ফরাসি ভাষায় ১৯৪৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি প্রায় ২৫০ টি ভাষা ও উপভাষায় অনূদিত হয়েছে, যা অনূদিত বইয়ের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। আজ অবধি বইটির ১৪০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে এবং প্রতি বছর ২ মিলিয়ন কপি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ‘দ্য লিটল প্রিন্স’ কেবলমাত্র বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে এনিমেশন মুভি হিসেবে উঠে এসেছে সিনেমার পর্দায়। তাই হয়তো বইটি আজ বিশ্ব দরবারে এতো আলোচিত।

আলোচক জনাব সাবিদিন ইব্রাহিম বইয়ের ঘটনা গুলোকে ফুল দিয়ে মালা গাথার মত এত সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন যেন মনে হয়েছে তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে সম্পূর্ণ বইয়ের একটি চিত্রকল্প ফুটিয়ে তুলেছেন। ঘটনার পরিক্রমায় আলোচনার মধ্যে তুলে এনেছেন নিজের জীবনের গল্পও।

জনাব সাবিদিন ইব্রাহিম ‘দ্য লিটল প্রিন্স’ কে পরিচয় করিয়ে দেন “ক্ষুদে যুবরাজ” নামে। তিনি এই ক্ষুদে যুবরাজের সম্পূর্ণ জীবন জার্নি অত্যন্ত চমকপ্রদ ভাবে বর্ণনা করেন। বক্তার উপস্থাপনায় আমরা জানতে পারি বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটের সাথে সাক্ষাত হওয়া ক্ষুদে যুবরাজ বাইরের কোন একটি গ্রহ থেকে পৃথিবীতে এসেছে। পৃথিবীতে আসার আগে ক্ষুদে যুবরাজ আরও ছয়টি গ্রহ ভ্রমন করে। তার এই দীর্ঘ জার্নি তে সাক্ষাত পাওয়া ছয় জন ভিন্ন চিন্তার মানুষের কথা গল্পের ছলে তুলে আনেন আলোচক সাবিদিন ইব্রাহিম। যাদের সবার চরিত্রই ছিল ক্ষুদে যুবরাজের চোখে অত্যন্ত আশ্চর্যের।

উপস্থিত শ্রোতাদের একাংশ

প্রথম গ্রহে ক্ষুদে যুবরাজের সাথে সাক্ষাত হয় এক রাজার। রাজা যখন যুবরাজকে বিচারক হতে বলে এবং নিজের বিচার করতে বলে তখন যুবরাজ একটি মন্তব্য করে- “It is much more difficult to judge oneself than to judge others. If you succeed in judging yourself rightly, then you are indeed a man of true wisdom.” এভাবে করে ক্ষুদে যুবরাজ ছয়টি গ্রহ ঘুরে পৃথিবীতে আসে।

পৃথিবীতে তার সাক্ষাত হয় সাপ, ফুল, শেয়াল, বিজ্ঞানী ও বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটের সাথে। বিজ্ঞানীর সাথে যুবরাজের সাক্ষাত হয় একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে। সেখানে বিজ্ঞানী বলেন তিনি এমন একটি ‘পিল’ তৈরি করেছেন, যেটা খেলে এক সপ্তাহ পানি খেতে হবে না। ফলে সপ্তাহে বেচে যাবে ৫৩ মিনিট। যুবরাজকে জিজ্ঞাসা করা হলো এই ৫৩ মিনিট দিয়ে সে কি করবে? সে বলল এই বেচে যাওয়া ৫৩ মিনিট ঝরণার শীতল পানির পাশে সে ধীরে ধীরে হাটবে। যদিও তার সময়টা সেফ হয়েছিল পানি না খাওয়া থেকে, তবুও তার মনের টান ঐ পানির দিকেই। অর্থাৎ মূল কখনো ভুলবার নয়।

অপরদিকে শেয়ালের সাথে যুবরাজের সাক্ষাত ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর, যেখানে ফুটে উঠেছে একে অন্যের প্রতি পোষ মানার কথা, ভালোলাগা-ভালবাসার কথা। এভাবেই জনাব সাবিদিন ইব্রাহিম তার সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ‘দ্য লিটল প্রিন্স’ বইটির মূলভাব শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হন।

বক্তার মূল আলোচনা শেষে প্রশ্ন উত্তর পর্বে জনাব জাহানুরের করা “ক্ল্যাসিক বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?” প্রশ্নের গঠনমূলক উত্তর প্রদানের মাধ্যমে বক্তা ৯৯ তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Related Posts

About The Author

Add Comment