লেখকের কম্ম, লেখকের ধম্ম!

প্রতিদিন কিছু না কিছু না পড়তে পারলে লেখক হওয়া আপনার কম্ম নয়, ভাইয়া-আপুরা!

আমার পরিচিত এক তরুণ লেখক যার ৩/৪ টা বই এরই মধ্যে প্রকাশ হয়েছে, তার বইয়ের ফ্লাপে লেখক পরিচিতিতে দেখি তিনি লিখছেন: প্রিয় শখ- বই পড়া!

বেশ কয়েকজন কাব্যযশ প্রার্থী বড়লোক কন্যা বা ব্যবসায়ী বধূকেও দেখলাম, অতি কাঙ্খিত লেখক পরিচিতিতে লিখছেন ‘অবসরের প্রিয় কাজ: বই পড়া’!

মানে তিনি বা তেনারা আর সব কাজে এতই ব্যস্ত যে বছরে কয়েকদিন ছুটি পেলে বা ফুরসত পেলেই কেবল পড়তে পারেন! স্কুল কলেজে আমরা যে ‘মাই হবি’ রচনা/প্যারাগ্রাফ লিখতাম সেটা মনে পরে গেল! স্কুল কলেজের বাচ্চারা বা সাধারণ পাঠককুল লিখতে পারেন ‘বই পড়া’ আমার হবি কিন্তু যিনি বই লিখে ফেলেছেন তার জন্য বই পড়া স্রেফ শখ থাকে কীভাবে?

লেখক হওয়ার বা হতে চাওয়ার যে পাপ করেছেন তার একটা যাবজ্জীবন দণ্ড আছে!

লেখক হওয়ার বা হতে চাওয়ার যে পাপ করেছেন তার একটা যাবজ্জীবন দণ্ড আছে!

প্রতিদিন কোন কিছু না জানা বা না শেখা বা কোন কিছু না পড়ে থাকা অনেক গর্হিত অপরাধ! অবসরে বা কাজের ফাকে বই পড়লে লেখালেখি আপনার কম্ম নয়। একজন চাষী প্রতিদিন তার মাঠে না গেলে তার ফসল নষ্ট হয়ে যায়, একজন কাঠমিস্ত্রি প্রতিদিন তার বাটালি ধার না দিলে সেটাতে মরিচা ধরে যায়, একজন শিল্পী প্রতিদিন রেওয়াজ না করলে তার কন্ঠে ফারাক স্পষ্ট হয়ে যায়। আর আপনি লেখক বলে দাবি করেন আর পড়াকে শখ বা অবসরের পার্শ্ব কাজ বানিয়ে রেখেছেন! আপনি কি লেখক ও শখে শখে?

লেখক নিয়মিত জানা বুঝা, পড়াশুনার ফাকে ফাকে অন্য কাজ করেন। অন্য কাজের ফাকে ফাকে বা অবসরে বা শখে পড়লে আপনি লেখক কীভাবে?

লেখক নিয়মিত জানা বুঝা, পড়াশুনার ফাকে ফাকে অন্য কাজ করেন। অন্য কাজের ফাকে ফাকে বা অবসরে বা শখে পড়লে আপনি লেখক কীভাবে?

প্রতিদিন জমির খেয়াল না রাখলে যেমন কেউ চাষা হতে পারে না, প্রতিদিন হাতুরি-বাটাল শান না দিলে যেমন কেউ কাঠমিস্ত্রি হতে পারে না, প্রতিদিন রেওয়াজ না করলে যেমন কেউ শিল্পী থাকতে পারে না তেমনি প্রতিদিন যার পড়াশুনা নাই সে নিজেকে লেখক দাবি করে সেটা কি হাস্যকর না?

Related Posts

About The Author

Add Comment