শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পরিচয়

মানুষ মাত্রই বাঁচবার অধিকার তার জন্মগত, হোক সে গরীব কিংবা ধনী, হিন্দু কি বা মুসলিম। আর শাসক শ্রেণি মাত্রই নানা অজুহাতে, সকল শঠতা দিয়ে এ সত্য গোপন করার চেষ্টা করে। এমন একটি প্রেক্ষাপটে অবিভক্ত ভারতবর্ষের স্বাধীনতার কামনাকে প্রেক্ষাপটে রেখে লেখা হয়েছে “পথের দাবী”।

এ স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যেই সব্যসাচী ওরফে ডাক্তার সাহেব বার্মা মুল্লুকে গড়ে তোলেন পথের দাবী নামের সংগঠন। যার উদ্দেশ্য প্রান্তিক মানুষ বিশেষত শ্রমিকদের সামনে সত্য উন্মোচন করে বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন। কিন্তু এই অধিকার আদায়ের আন্দোলন অহিংস না কি সহিংস হবে? উপন্যাস পড়তে পড়তে মনে হয়, এ দুই আদর্শেরই যেন তর্ক যুদ্ধ চলছে।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ভারতী। সব্যসাচীর প্রতি তার আস্থা-ভক্তি অগাধ। দুজনের লক্ষ্য এক হলেও তাঁদের মাঝে কোথায় যেন একটা অমিল! তবে ভারতী- অপূর্ব- সব্যসাচীর পথ আলাদা হলেও দাবী একটাই- বিপ্লব, মুক্তি এবং মুক্তি। একজনের বিশ্বাস জুড়ে আছে মানুষ কে মানুষের মতো বাঁচাবার চেষ্টা কারণ “মানুষ ত মানুষ, জলস্রোত নয়”। আরেকজন মনে করে এসব ফাঁদে পা না দিয়ে যে কোন মূল্যে জাতির মুক্তি। গল্পের ঘটনা পরিক্রমায়, ব্রিটিশ শাসনের নিষ্ঠুর অপমান আর পরাধীনতার দুঃসহ যন্ত্রণার কথাও চলে আসে চরিত্রগুলোর জবানিতে। একই সাথে লক্ষণীয় যে, সে সময় পূর্ব পশ্চিম জুড়ে লাল বিপ্লব যে চরম, উপন্যাসে তাও বেশ স্পষ্ট ভাবেই চলে আসে বিক্ষিপ্ত ঘটনার পঠন পাঠনে।

নিঃসন্দেহে স্বাধীনতাত্তোর ভারতে “পথের দাবী” (১৯২৬ সালে প্রকাশিত) একটি দুঃসাহসিক লেখা। যার ফলাফল, ইংরেজ সরকার কতৃক সরাসরি বাজেয়াপ্ত হওয়া।

উপন্যাসে ডাক্তার সাহেবের চমকপ্রদ উপস্থিতি ছাড়াও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপূর্ব ভারতীর হব হব প্রেম পাঠককে অানন্দ দিবে। বলে রাখা ভাল অপূর্ব কট্টর ব্রাক্ষণ আর ভারতী খ্রিষ্টান। আমি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম লেখক এদের কী পরিণতি দিবেন? এদের পরিণতিও কী অন্য গল্পের মতো একঘেয়ে হবে! শেষ পর্যন্ত কী হয় তা লিখে গল্পের মজা নষ্ট করবো না। কিন্তু বলবো উপন্যাসটি আমার ভালো লেগেছে।

Related Posts

About The Author

Add Comment