শূন্য বালুচরঃ সমসাময়িক কালের গল্প

শূন্য বালুচর

বইয়ের নামঃ শূন্য বালুচর
ঔপন্যাসিকঃ Tuffahul Jannat Maria
বইয়ের ধরণঃ সমসাময়িক উপন্যাস
প্রচ্ছদঃ জয়দেব
প্রকাশনাঃ ইন্তামিন প্রকাশনী
মুদ্রিত মূল্যঃ ১৩০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৮

উপন্যাস মানে জীবনের গল্পের ধারাবাহিক বর্ণনা। জীবনের কোনো দিক যখন ক্রমানুসারে কোনো শব্দের জাদুকরের হাত ধরে উঠে আসে কাগজের পাতায়, তখন তার নাম হয়ে যায় উপন্যাস। জীবনের সাধারণ গল্প তখন ঔপন্যাসিকের হাতের জাদুতে হয়ে ওঠে অসাধারণ। ছন্দ ও শব্দের কারুকার্যময় চর্চায় তা তখন লাভ করে নতুন দ্যোতনা।

এমন-ই এক সাধারণ গল্প নিয়ে পাঠক সমাজে হাজির হয়েছেন তরুণ লেখিকা তুফফাহুল জান্নাত মারিয়া। নবীন এ লেখিকা অনেক দিন যাবত ভার্চুয়াল জগতে লেখালেখি করলেও এটি তার প্রকাশিত প্রথম কোনো বই। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের গল্পগুলো আমাদের কাছে নিতান্তই সাধারণ মনে হয়। কিন্তু সে গল্পের সাথে যখন সংযোজনা হিসেবে যুক্ত হয় শব্দের কারসাজি, তখন সাধারণ গল্পটাও হয়ে ওঠে অনন্যসাধারণ। এখানে লেখকের ভূমিকাই সবচাইতে মুখ্য ব্যাপার। যা হোক, তাত্ত্বিক আলোচনা বাড়াতে চাইনা। এতে পাঠকের বিরক্তির বাড়বে বৈ কমবে না। যা হোক, কাজের কথায় আসা যাক। উক্ত উপন্যাসটিতে এক দরিদ্র পরিবারের সন্তানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সন্তান হিসেবে তার দায়িত্ববোধ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা পারিপার্শ্বিকতা বেশ চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন লেখিকা মহাশয়া। একই সাথে উক্ত উপন্যাসটিতে স্থান পেয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্রের পার্শ্বচরিত্রগুলো। এ সংযোজন গল্পটিতে যুক্ত করেছে আলাদা মাত্রা। এছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে চরিত্রায়নের প্রয়োজনে আঞ্চলিক ভাষার যথাযথ প্রয়োগ এটিকে আলাদা করে তুলেছে অন্য বইয়ের থেকে। এটিকে এ উপন্যাসের আলাদা স্বকীয়তা হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যেতে পারে।

এবার আসা যাক শব্দচয়ন সংক্রান্ত আলোচনায়। পুরো উপন্যাস জুড়েই শব্দের ব্যবহার বেশ ভালোই লেগেছে আমার। শব্দচয়ন তেমন খারাপ লাগেনি। প্রথম প্রকাশিত বই হিসেবে শব্দের প্রয়োগ বেশ ভালোই ছিল সর্বোপরি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি চোখে পড়েছে। যেমনঃ বইয়ের মধ্যে বেশ কিছু স্থানে বানান সংক্রান্ত ভুল দৃষ্টি এড়ায়নি। এছাড়া বইয়ের অনুচ্ছেদগুলো অপেক্ষাকৃত দ্রুত বদলে যাওয়ায় কখনো কখনো আগের প্রেক্ষাপটের সাথে মেলবন্ধন ঘটাতে অল্পবিস্তর বেগ পেতে হয়েছে। এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের ফলাফল। অন্যরা এ নিয়ে আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন।

কথা বাড়াবো না আর! ইতোমধ্যেই পোস্টের আকার ঘরের ছাদ ফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করবার জোগাড় হয়েছে। অন্তত এখনকার স্বল্পাকৃতির লেখা পড়তে অভ্যস্ত ফেসবুক প্রজন্মের কাছে এমনটা মনে হলে মোটেও অবাক হবোনা আমি।বরং মনে হবে, এটাই তো হবার কথা ছিল। যা হোক, নবীন এ লেখিকার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা

নবাগত দিনগুলো তার আনন্দময় ও সুখের হোক।

Happy Reading!

Related Posts

About The Author

Add Comment