সপ্তাহে অন্তত একটি বই পড়ুন

আপনি হয়তো অনেক সিরিয়াস পাঠক বা আপনি একজন সৌখিন পাঠক বা আপনি একজন পাঠক হয়ে উঠতে চান। আপনি অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন বই পড়েন। আচ্ছা আপনি একবছরে কয়টি বই পড়েছেন সেটা হিসেবে রেখেছেন?না, রাখেননি! হিসাব করে দেখলে অবাক হবেন। আপনি আপনার স্টান্ডার্ডেই অনেক কম পড়েছেন। আপনি নিজেও জানেন আপনি আরও বেশি পড়তে পারতেন, আপনার আরও অনেক বই পড়ার কথা ছিল, আপনি অনেকগুলো বই এখনো পড়েননি। এখন কি করা যায়। মন বড় পাগলা। একে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন। একে কিছু নিয়মে বা অভ্যাসে বেধে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। হ্যা, সপ্তাহে একটি বই করে একবছর পড়ে দেখুন। দেখবেন ৫২ টি বই পড়া হয়ে গেছে! আর ৫২ টি বইয়ের উপর ২০/৩০ টি বাক্য করেও যদি লেখেন তাহলে বছর শেষে দেখবেন আপনি অনেক কিছু লিখে ফেলেছেন এবং আপনার পড়া বইয়ের অনেক বিষয় আপনার স্মৃতিতে গাথা রয়েছে।

আপনি আপনার নোটগুলো পড়লেই আবার পুরো বইটির কথা মনে এসে যাবে। এভাবে কি কখনো ভেবেছেন? যদি না ভাবেন, তাহলে আজ থেকেই ভাবা শুরু করুন এবং কাজ শুরু করুন। আর আমাদের সাথে যুক্ত হউন। আমরা একসাথে এই চর্চাটা করতে চাই।

ওম্মা! এক সপ্তাহে একটি বই! সেটা কি সম্ভব?

lady reads

ধরেন, আপনি ২৪০-২৫০ পৃষ্ঠার একটি বই নিলেন। এটাকে যদি ৬ ভাগে ভাগ করেন তাহলে কত হয়? আপনি প্রতিদিন মাত্র ৪০ পৃষ্ঠা করে পড়েও ৬দিনে একটি বই শেষ করে ফেলতে পারেন! একদিন সম্পূর্ণ বিশ্রামের জন্য রাখলেন বা বিরতি নিলেন! সহজ টার্গেট তাই না? আর অনেক বই তো মাত্র ১০০-১৫০ পৃষ্ঠার! প্রতিদিন মাত্র ২ ঘন্টা দিলেই কিন্তু আপনি আপনার টার্গেট পুরো করে ফেলতে পারছেন!  নিয়মিত এক ঘন্টা পড়লেও কিন্তু আপনি আপনার কোটা আনায়াসে শেষ করে ফেলতে পারবেন।

কোন সময় পড়বো?

cute girl reads

আমি তো অনেক ব্যস্ত! আমার অফিস আছে, পরিবারে কাজের চাপ আছে বা কলেজে/বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক চাপ, ক্লাস-অ্যসাইনমেন্ট ইত্যাদি, ইত্যাদি! কি করা যায় বলুন তো? হ্যা, আপনি দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় করে পড়তে পারেন, বিশেষ করে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে এক ঘন্টা পড়ে ফেলুন। এক্ষেত্রে খুব রাত করে ঘুমাতে না যাওয়াই ভালো! ধরেন আপনি অফিসে যাচ্ছেন, অফিসের গাড়িতে করে গেলে তো বেশ ভালো। আধা ঘন্টা বা একঘন্টা গাড়িতেই পড়ে ফেলতে পারেন! অফিসের বিভিন্ন ফাইলপত্রের সাথে একটা বই রাখা অভ্যাস করলে মন্দ তো হয় না!

লাঞ্চের ফাকে, যানবাহনে করে চলাচলের ফাকে কিন্তু অনেক অলস সময় পার করেন কোন কিছু না করেই। অহেতুক কাজে ৫ মিনিট, ১০ মিনিট, ৩০ মিনিট বা এক ঘন্টা চলে যায় খেয়ালই থাকেনা। ৫মিনিটে আপনি কিন্তু দিনের বাজেট থেকে ২ পৃষ্ঠা পড়ে ফেলতে পারেন! জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্ত যদি কাজে লাগানো যেতো? ইশ! কত সময় আমরা হেলায় উড়িয়ে দেই!

পড়ার মাধ্যমে নতুন অর্জিত জ্ঞান কিন্তু আপনার প্রমোশনে কাজে লাগতে পারে! অফিস বা কাজ থেকে ফেরে খানিক বিশ্রাম নিয়ে যাদুর বাক্স টেলিভিশন নিয়ে না বসে দু’ঘন্টা পড়ার অভ্যাস করতে পারেন। কয়েকদিন অভ্যাস করুন তাহলেই হয়ে যাবে।

খুব প্রেসারে আছি!

1991375

আপনি চাকুরীজীবি বা ছাত্র। আপনার অনেক চাপ এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। মাঝে মাঝে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনাকে হয়তো একটি বেশ বড় কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু আপনি প্রেসারের কাছে হার মেনে গেছেন। আপনার কাজ আগাচ্ছে না। সে সময় একটি ভালো বই পড়ার চেষ্টা করুন। মন সতেজ হয়ে যাবে, আপনি আপনার কঠিন কাজটা হয়তো সহজে করে ফেলতে পারবেন এবং চাপ থেকে মুক্ত হতে পারবেন।

ছোট বই পড়ুন:

Reflection, Francis John Wyburd

Reflection, Francis John Wyburd

আপনাকে প্রথমই যে তলস্তয়ের ‘ওয়ার এন্ড পিস’ বা জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’ পড়তে হবে তা নয়। নিজেকে প্রথমে ছোট টার্গেট দিন এবং সেটা অর্জন করার চেষ্টা করুন। ৫০ পৃষ্ঠা বা ১০০ পৃষ্ঠার মধ্যে পৃথিবীতে অসংখ্য শ্রেষ্ঠ বই আছে। আপনার পছন্দের কোন গুরুজন বা অভিজ্ঞ পাঠকের কাছ থেকে সেসব বইয়ের সাথে পরিচিত হতে পারেন। ছোট্ট একটা বই এক বসাতে শেষ করার মাধ্যমে আপনি কিন্তু নিজেকে বিজয়ী মনে করতে পারেন। এটা আপনাকে আরও বই পড়তে উৎসাহিত করবে। একটা বিশাল বড় বই পড়ার চেষ্টা করে পড়া থেকে বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ার চেয়ে কয়েকটা ছোট বই পড়ে শেষ করা পাঠক হিসেবে অনেক উপকারী!

নিজেকে বই উপহার দিন:

little girl007

আমরা যাকে খুব পছন্দ করি তাকে উপহার দিতে চাই। আপনি নিজেই কিন্তু আপনার শ্রেষ্ঠ বন্ধুর একজন! কেন নিজেকে উপহার নয়? নিজের বিভিন্ন অর্জনে কারো কাছ থেকে উপহার আশা না করে নিজেই নিজেকে গিফট করুন না! আর সেটা বই হলে মন্দ হয় না। একটা ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করি। জীবনে আমি অনেক বই উপহার পেয়েছি। কিন্তু আমি নিজেই নিজেকে সবচেয়ে বেশি বই উপহার দিয়েছি। আমি যখন একটি অসাধারণ বই কিনি তখন বইয়ের মধ্যে নিজের নাম সই করে নিজেকে উপহার দেই আর লিখে রাখি ‘A Gift to Myself’!

ব্যাপারটা কিন্তু হাসির নয়। আপনিই তো আপনাকে সবচেয়ে সেরা গিফটি দিতে পারেন, তাই নয় কি?

সপ্তাহের ডেডলাইন থেকে পিছু হঁটা যাবে না:

Girl In The Hammock by Winslow Homer

Girl In The Hammock by Winslow Homer

 

প্রতি সপ্তাহে একটি বই যেকোন ভাবেই হউক শেষ করতে হবে। আলসেমি করে এক সপ্তাহের বই অন্য সপ্তাহে নেয়া যাবে না। এভাবে জমানো শুরু করলে কিন্তু কাজ আটকে যাবে এবং আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন না! আপনি যদি সপ্তাহে একটি বই পড়া অভ্যাসের অংশ বানিয়ে ফেলেন তাহলে দেখবেন সেটা খবুই সহজ একটা কাজ! আপনি ইচ্ছে করলে অন্য সপ্তাহের পড়া খানিক এগিয়ে রাখতে পারেন!

সপ্তাহে একটি বই এই প্রোগ্রামটি চালানোর জন্য রয়েছে আমাদের একটি ফেসবুক পেজ। লিংকটি হচ্ছে: https://www.facebook.com/bookAweek.org

চলুন আমরা প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একটি বই পড়া শেষ করি। পড়া থেকে সবচেয়ে সেরা সুবিধা নিতে হলে এর উপর লিখতে হবে। ভালো হয় আমরা একটি ছোট রিভিয়্যু লিখি বা ক্ষুদ্র সমালোচনা লিখি বা বইটি কেন ভালো লাগলো বা খারাপ লাগলো এটা শেয়ার করি। এতে দুধরণের লাভ; আপনার নিজের মতামত রেকর্ড থাকলো আর আপনার আলোচনা শুনে অন্য বন্ধুরা বইটি পড়তে উৎসাহিত হলো। সবদিক থেকেই বহুবিদ কল্যাণ। আসুন আমরা সপ্তাহে অন্তত একটি বই পড়ে শেষ করা এবং এর উপর মতামত রাখা আমাদের জীবনের একটি বদভ্যাসে পরিণত করি যেন আমরা অতি ব্যস্ত হয়ে গেলেও, বুড়ো হয়ে গেলেও সে বদভ্যাস পিছু না হটে। এটা ১ বছর চর্চা করে দেখলেই বুঝতে পারবেন নিজের মধ্যে কি পরিবর্তন চলে আসে। তাহলে আজই শুরু হয়ে যাক। হ্যা, এই পেজে আপনার লেখাও শেয়ার করতে পারবেন। পেজে আপনার লেখাটা মেসেজ করে পাঠিয়ে দিন। আমাদের এডমিনরা সেটা পেজে শেয়ার করবে। আর সে পোস্ট যত পারুন শেয়ার করুন। আমরা নিজেরাই পড়ি, নিজেরাই লিখি। শুরু হউক জীবনব্যাপী পাঠোৎসব!

সবশেষে বলতে গেলে বলতে হয় নিয়মিত পড়া আপনাকে আরও উত্তম ও পূর্ণ করবে। আপনার কাছে পৃথিবী নতুন নতুন অর্থ নিয়ে হাজির হবে। পৃথিবীর তাবৎ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এই বইয়ের মধ্যেই লিপিবদ্ধ আছে। সেই জ্ঞানের পথে রওয়ানা হউন। শুভকামনা রইলো!

 

সাবিদিন ইব্রাহিম

 

[email protected]

Related Posts

About The Author

One Response

Add Comment