সাই লুনকে ভাবছি!

ক্রিকেটের আলাপ বাদ! আসেন আমরা আমাদের নিজেদের মাঠে খেলি। যার যার বিভাগের সেরাটা দিই। তাহলেই বাংলাদেশ আগাবে। জয়-পরাজয়ের স্বাদ নিয়ে অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে অপরাজেয় হয়ে উঠি।লাইব্রেরিতে থাকা অবস্থায় যাকে নিয়ে কয়েক লাইন লেখার পরিকল্পনা করেছিলাম তাকে নিয়ে লেখার মাধ্যমে শুরু করি।

সাই লুন (Ts’ai Lun) নামটার সাথে আমরা কি পরিচিত? আমারও ভালো করে পরিচয় ছিল না। আজকে পরিচয় থেকে আত্মীয়তা এবং আত্মীয়তা থেকে শ্রদ্ধার স্তরে নিয়ে এসেছি।

এই ভদ্রলোক না  দু:খিত ভদ্র মানুষ বলাই যুক্তিসঙ্গত! কারণ তিনি ছিলেন একজন খোজা যাকে আমরা হিজরা বলে থাকি।

এই নামটি আমার মনে ও মগজে গেথে গেল যখন দেখি মাইকেল এইচ হার্টের ‘দি হানড্রেড’ এ প্রথম দশজনের মধ্যেই তার অবস্থান। আরও স্পেসিফিক করে বলতে গেলে তার অবস্থান সাত নাম্বারে! মোহাম্মদ (স), আইজাক নিউটন, যিশু খ্রিস্ট, বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, সেইন্ট পলের পরই সাই লুন নামে এই চাইনিজ ব্যক্তিত্বটির অবস্থান!

আট, নয় ও দশে রয়েছেন যথাক্রমে গুটেনবার্গ, কলম্বাস ও আইনস্টাইন!

দি হানড্রেড এর প্রায় একশো জনকেই কম বেশি চিনি-জানি এবং তাদের প্রত্যেককে নিয়েই এক পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার পৃষ্ঠা পড়েছি। কিন্তু অনেকদিন পর হানড্রেড মনোযোগ দিয়ে পড়ার সময় এবার দেখতেছিলাম কোন নামটা সবচেয়ে অপরিচিত, মনে গাঁথা নেই। এবং সাই লুন নামটাই দেখলাম স্মৃতিতে নেই! আজকে সাই লুনকে নিয়ে চিন্তা করবো, তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে ঘুমাতে যাবো। মাত্র এক রানে চির প্রতিদ্বন্ধী ভারতের কাছে বাংলাদেশের পরাজয়ের কথা ভুলে যাবার চেষ্টা করবো।

আধুনিক কাগজ আবিষ্কার করে তিনি মানুষের ইতিহাস, মানুষের জ্ঞান চর্চার ইতিহাসকে কিভাবে এক নতুন চূড়ায় নিতে সাহায্য করেছেন তা ভেবে শিহরিত হয়ে উঠছি! স্যালুট, সাই লুন! তোমার চলে যাওয়ার দুই হাজার বছর পর বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে তোমার কথা ভেবে এক তরুণ ঘুমাতে যাচ্ছে! তোমার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

পাঠকের ডায়রী, ২৩ মার্চ ২০১৬

Related Posts

About The Author

Add Comment