সুন্দর একটা সকালের স্বপ্ন দেখি

আমার জানালায় কোন পর্দা নেই, আমি খেয়ালও করি না

বড় বেশি বিতৃষ্ণা জন্মেছে বুকের ভেতর

একরাশ নীল কষ্ট, আর চাপা থাকা অভিমান

এই দুইয়ে মিলে আমার বসবাস।

আমি যখন আমার ছোট্ট অথচ সাজানো গোছানো রুমটাতে ঢুকি

সামনে টেবিল আর তার উপর একটা ল্যাপটপ

হাতের বায়েই বারান্দার দরজা

বারান্দায় গেলেই বিশাল মুক্ত আকাশের হাতছানি।

কিন্তু ঐ যে জানালাটা, মাঝে মাঝে খুব ভাল লাগে

হঠাৎ! যখন আলো এসে চোখে ঝাপিয়ে পড়ে

তখন এই পৃথিবীটাকে অন্ধকার মনে হয়।

সেই অন্ধকারটা কি সত্যি নয়?

গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম, শীতকালে বেজায় ঠাণ্ডা

কিছু মানুষও মারা যায়।

কিন্তু কেন? প্রাকৃতিক পরিবেশটাকে কি আমরা

হাতের মুঠোয় নিয়ে, কৃত্রিম করিনি?

তাহলে আমরা কোথায় বাস করি?

এই অন্ধকারেই তো, এটাই তো সেই পৃথিবী।

ঘুমোতে গেলে চোখগুলো কেমন বড় হয়ে যায়

ঘুম আর আসেনা, দুশ্চিন্তায় কি ঘুম হয়?

তবুও চলে প্রানান্তকর চেষ্টা।

এই শান্তির ঘুমটাতেও হানা দেয় কিছু হায়নারা

দুঃস্বপ্নের এক পাল বার্তা নিয়ে

আবারও চোখ দুটো খুব বড় হয়ে যায়

গায়ে চিমটি কাটি, বেঁচে আছি তো!

নাহ্‌! আর ভাল লাগে না

মন বলে তুই চলে যা, সাত সমুদ্দুর ঐপারে

তখন বিবেক বলে, সমস্যার সমাধান কি হবে?

চুপ, নিস্তব্ধ, বুকটা ক্ষণিকের জন্য স্তিমিত হয়ে আসে

হয়তো মনটা কোন উত্তর খোঁজে সে ফাঁকে।

উত্তর না পেয়ে মন ফিরে আসে তার আপন নীড়ে

পুনশ্চ সেই ভাবাবেগ, শান্ত ছেলেটির মত

খোঁজে নেয় মনটা কোথায় আছে।

এমনটা কি শুধু আমারই হয়, নাকি হয় অন্য কারো?

তবে কেন আমরা চিন্তিত নই?

অবাক লাগে, কিভাবে আমরা অনিশ্চয়তায় ভুগি

আর আত্মদহন? জিনিসটা কি?

উফ্‌! প্রশ্ন প্রশ্ন আর প্রশ্ন, সমাধান কই?

হায়রে বোকা! চোখ দুটো বন্ধ কর

মনের দুটি খোল, কি! আলো পেলি?

নাকি এটাতেও বাইরের দুনিয়ার হাত পড়েছে?

পড়তে দিস না, তুই তো আলোকবর্তিকা হাতে

ছুটে চলবি অবিরাম পথে, সাথে আমরা

থাকব, আছি, ছিলাম কিনা জানিনা

তবে সেটা অতীত, তাই আমি ভাবিত নই।

হয়ত আবার আজ রাতেই ঘুমে প্রলাপ বকব

ঘুমোতে না পেরে উঠব আমি জাগি

আমি আবার চিন্তিত হব, সকলের মত আমিও যে

সুন্দর একটা সকালের স্বপ্ন দেখি।

কবি: রুহুল আমিন দীপু

আইটি সম্পাদক, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম

Related Posts

About The Author

One Response

Add Comment