স্টাডি ফোরামের এক বন্ধুকে নিয়ে কিছু কথা

পৃথিবীতে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মত মানুষের অনেক পরিচয় থাকে এই যেমন গুন্ডা, মাস্তান, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমজীবী, বুদ্ধিজীবী, চাকুরিজীবী আরও কত কি। এদের সমাজে একটা অবস্থান থাকে। এদের দ্বারা পৃথিবী, দেশ, এবং সমাজ চললেও খুব যে দেশ এবং সমাজের ক্ষতি না হলেও উপকার যে বেশি হয় তা কিন্তু নয়। এরা নদীর স্রোতে গা ভাসিয়ে চলেন। দেশ এবং সমাজের অসঙ্গতি দেখলেও খুব যে চিন্তিত বা বিচলিত হন, তাও কিন্তু নয়। তাই পৃথিবী এদের মনেও রাখেনা। এরাও পৃথিবীতে নাম লেখিয়ে যেতে চান না। পৃথিবীর জ্বালানী হিসেবে, কাঠকয়লা হিসেবে মিশে যেতে এদের কোন বাঁধা নেই।

অপর এক শ্রেণীর মানুষ আছেন যারা দেশ এবং সমাজের জন্য ভাবেন। সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেন। এই শ্রেণীর মানুষকে কোন জীবী হিসেবে ডাকা যায় বলুনতো? আমি কিন্তু এদেরকে মননজীবী হিসেবেই সম্বোধন করতে চাই।

সাধারণ মানুষ তাদের অসাধারণ কার্যকলাপের জন্য সম্বোধন করেন ভালো মানুষ হিসেবে। আর মধ্যবিত্ত মানুষ এদের সম্বোধন করেন পাগল হিসেবে। কারণ সাধারণ বা মধ্যবিত্ত যে কাজ করতে ভয় পায় সে কাজগুলো অবলীলায় করে যান সেসব লোক। সাধারণ ও মধ্যবিত্তের সাধারণ ও মাঝারি কাজের সাথে সেইসব লোকদের কাজ যায় না বলে তাদেরকে পাগল বলে সেইফ জোনে থাকেন সাধারণ ও মধ্যবিত্ত জন। অথচ সেই তথাকথিত পাগলামি না থাকলে এই অসাধারণ কাজগুলো করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। আবার এই অসাধারণ কাজের জন্য তারা বিনিময়ে কিছুই চাননা। এই যেন ফুলের মত সুবাতাস ছড়িয়ে নিরবেই পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যাওয়া। ফুলের স্বভাব কিন্তু তাই। আপনারা খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা, যদি খেয়াল করে না থাকেন তবে একটু সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করে দেখবেন ঠিক ধরতে পারবেন।

এই রকম এক মননজীবীর সাথে সাক্ষাৎ হল গতকাল। যার প্রাপ্তির আশা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয় প্রাপ্তির আশাটা সামগ্রিক। বিলিয়ে দেওয়ায় যার স্বভাব তার কিন্তু প্রাপ্তিটা সামগ্রিকই হয়ে থাকে। তার প্রাপ্তিতে সমগ্র পৃথিবী, মানবজাতি এবং সমাজ উপকৃত হয়। অন্যজীবী মানুষেরা অনেক কিছুই করতে চান কিন্তু কিছুই করতে পারেননা। একসাথে সবকিছু করা সম্ভব নয়। জ্ঞানের শাখা যে অনেক। তাই ধীরে ধীরে এগোতে হয়। সবকিছু জানার ইচ্ছা যার সে বিজ্ঞ হতে পারে কিন্তু পণ্ডিত নয়। পণ্ডিত হওয়ার জন্য চাই একাগ্র মন এবং সাধনা যেটা সবার মধ্যে থাকেনা, আর তাই সবাই পণ্ডিতও নয়। সবাই পণ্ডিত হতে চায় কিন্তু বেশিরভাগ মানুষকেই বিজ্ঞতা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান নিয়ে উপলব্ধি করেছি, আপনার উদ্দেশ্য বিজ্ঞতা নয় আপনার উদ্দেশ্য পাণ্ডিত্য অর্জন। তাই আপনার পাণ্ডিত্যে আমি এবং আমরা বিজ্ঞতা অর্জন করলাম বলে মনে করি। আমার আজকের লেখার উদ্দেশ্য অন্যকে জানানো নয় আপনার কাছে পৌছে দেওয়া। জয়তু বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের, জয় হোক বুদ্ধিমুক্তির চর্চার।

 

ক্যাম্পাস ডায়রী, ১১ জানুয়ারি-২০১৬

নীরুপম নীরু

সমন্বয়ক, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম (বিডিএসএফ), কুমিল্লা চ্যাপটার

Related Posts

About The Author

Add Comment