হিলারি ক্লিনটনের পড়াশুনা

হিলারি ক্লিনটন। প্রায় দুই দশক ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের একজন। দীর্ঘদিন ছিলেন একজন সিনেটর। তারপর প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি। প্রথম নারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সকল প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন ২০০৮ সালে। কিন্তু নিজ দলের তরুন তুর্কি ওবামার কাছে শেষ মুহূর্তের পরাজয়। প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে পারেননি। কিন্তু তার দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রশ্নের উর্ধ্বে। তাই ওবামা প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।

FILE - In this file photo of Jan. 29, 2013,  Hillary Rodham Clinton speaks during a Global Townterview at the Newseum in Washington. On Monday, April 22, 2012, New York Gov. Andrew Cuomo said on  public radio's "Capitol Pressroom"  that he's not talking about running for the Democratic nomination for president in 2016 and he's not waiting to see if Clinton runs.(AP Photo/Pablo Martinez Monsivais, File)
অত্যন্ত সফলভাবে এ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন। সবচেয়ে বেশি দেশ সফর, সবচেয়ে বেশি ঘন্টা বিমানে থাকার রেকর্ড করেছেন প্রায়! সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন লড়ছেন হিলারী। যদি জয়ী হন তাহলে আমেরিকার ২৪০ বছরের ইতিহাসে হতে যাচ্ছেন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। তার আত্মজীবনী ‘লিভিং হিস্ট্রি’ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। সর্বশেষ বই ‘হার্ড চয়েসেস’ ও পাঠকমহলে সাড়া ফেলেছিল।

বছর দুয়েক আগে তার পড়াশুনা নিয়ে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস্’ এ তার একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়। রাজনীতির খানিকটা বাইরে একেবারে অন্তরঙ্গ সাক্ষাতকারে তার পড়াশুনা ও প্রস্তুতি নিয়ে খুব কাছ থেকে জানা যায়। নিচে ২০১৪ সালে  নিউইয়র্ক টাইমস্ এ দেয়া সেই সাক্ষাতকারটি অনুবাদ করা হলো:

WASHINGTON, DC - JANUARY 29:  U.S. Secretary of State Hillary Clinton answers questions from people from around the world during a "Global Townterview" at the Newseum January 29, 2013 in Washington, DC. Clinton took questions from youths from around the world via satellite and social media including Twitter, Facebook and Skype in advance of her last day at the State Department Friday.  (Photo by Chip Somodevilla/Getty Images)
আপনি এখন কি কি বই পড়ছেন?
হিলারি: রাতে পড়ার জন্য আমার একগাদা বই জমা হয়ে আছে। ওগুলোর কয়েকটি পড়ছি বা শীঘ্রই পড়ার আশা রাখি। সাধারণত আমি একসাথে একাধিক বই পড়ি। যেমন এখন আমি পড়ছি ডোনা টার্টের ‘দ্য গোল্ডফিন্চ’, মায়া এঞ্জেলোর ‘মম এন্ড মি এন্ড মম’ এবং হারলান কোবেন এর ‘মিসিং ইউ’।

আপনার সর্বশেষ পড়া সত্যিকারের সেরা বই কোনটি?
হিলারি: এডমান্ড দে ওয়াল এর ‘দ্য হেয়ার উইদ এম্বার আইজ’, এলিজাবেথ গিলবার্টের ‘দ্য সিগনেচার অব অল থিংস’, লিয়ান ওলসন এর ‘সিটিজেনস অব লন্ডন’ এবং ভিক্রম শেঠের ‘এ সুইটেবল বয়’ এর কথা ভুলতে পারছিনা।

আপনার প্রিয় সমসাময়িক লেখক কে কে? এমন কোন লেখক কি আছে যার বই বের হলেই কিনে ফেলেন?
হিলারি: আমি লরা হিলেনব্রান্ড, ওয়াল্টার আইজ্যাকসন, বারবারা কিংসোল্ভার, জন লে কারি, জন গ্রিশাম, হিলারি ম্যান্টেল, টনি মরিসন, আনা কুইন্দলেন ও এলিস ওয়াকারের যেকোন লেখাই পড়বো। আমি স্বাভাবিকভাবেই আলেক্স বেরেনসন, লিন্ডা ফেয়ারস্টেইন, স্যু গ্রাফটন, ডোনা লিওন, ক্যাথরিন হল পেইজ, লুই পেনি, ড্যানিয়েল সিলভা, আলেক্সান্ডার ম্যাককল স্মিথ, চার্লস টড এবং জ্যাকুলিন উইন্সপিয়ারের যেকোন লেখা সর্বশেষ কিস্তিগুলো পড়ি।

আপনার প্রিয় উপন্যাস কোনগুলো? আপনার প্রিয় ছোটগল্প? কোন কবিতাগুলো আপনার কাছে বিশেষভাবে প্রিয়?
হিলারি: প্রথম বয়সে পড়া ‘দ্য ব্রাদারস্ কারামাযভ’ আমার জীবনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছে। এই গ্রীষ্মে আমি এটা আবার পড়তে চাই। এখন এটা নিয়ে আমি কি ভাবি সেটা দেখতে চাই। আমার প্রিয় ছোটগল্পগুলো এলিস মুনরোর, বিশেষ করে তার গল্পসংগ্রহ ‘ক্যারিড এওয়ে’ ও ‘রানএওয়ে’। কবিতার বাছাইটি খুব সহজ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কবিকে আমার ভালো লাগে। আমার প্রিয় কবির তালিকায় আছেন ই ই কামিংস, টি. এস. এলিয়ট, সেমাস হিনী, পাবলো নেরুদা, ম্যারি অলিভার ও ডব্লিউ বি ইয়েটস্।

কোন বইগুলো পড়লে অপরাধবোধে ভুগেন কিন্তু বারবার পড়েন?
হিলারি: রান্না, সাজ সজ্জা, ডায়েট, স্বাবলম্বন, বাগান করা নিয়ে পড়ি। এগুলো আসলে কার্যকরী সময় কাটানোর মাধ্যম।

এবং ওয়াশিংটন ডিসি নিয়ে সবচেয়ে সেরা বই কোনটি? যারা রাজধানীতে থাকতে বা কাজ করতে আসার পরিকল্পনা করছে তাদের জন্য কি কোন একটা বই সুপারিশ করবেন?
হিলারি: ই.জে. দিওন এর ‘আওয়ার ডিভাইডেড পলিটিক্যাল হার্ট’। এটা একই সাথে আমাদের রক্ষণশীল ও লিবালেল মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরেছে। কিভাবে আমরা নিজেদের সাথে নিজেরাই আপোষ করি বা কিভাবে আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাও এমনটি করছে তার একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও পরামর্শ রয়েছে।

আপনি ভ্রমণ করার সময় কি পড়তে পছন্দ করেন?
হিলারি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ভ্রমণ করার সময় আমাকে একগাদা ফাইল দেয়া হতো প্রত্যেকটি জায়গা বা দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে। তাই ঐ ফাইলপত্র পড়াতেই আমার অধিকাংশ সময় চলে যেত। কিন্তু সময় পেলে আমি একটি উপন্যাস বা ঐ জায়গাকে নিয়ে কোন ভ্রমণকাহিনী পড়ার চেষ্টা করতাম।  যেমন হেলেন কুপারের ‘দ্য হাউস এট সুগার বীচ’ যেটাতে লেখক লাইবেরিয়াতে কাটানো শৈশব নিয়ে কথা বলেছেন। আর আছে এমা লারকিনের ‘ফাইন্ডিং জর্জ অরওয়েল ইন  বার্মা’।

এমন কোন বই কি আছে যেটা সকল ছাত্রছাত্রী পড়ুক বলে আপনি ইচ্ছে করেন?
হিলারি: জেন অস্টিনের ‘প্রাইড এন্ড প্রিজুডিস’, আইজ্যাক ডাইনসেন এর ‘আউট অব আফ্রিকা’, থমাস কেনিয়ালির ‘শিন্ডলারস্ লিস্ট’।

আপনি যখন শিশু ছিলেন তখন কি বই পড়তেন? আপনার প্রিয় শৈশবের বই কোনগুলো? এবং কোন বইগুলো আপনার মেয়েকে দিয়ে যেতে চান?
হিলারি: ওহ, আমি ন্যান্সি ড্রিও’র ‘উইন দ্য পুহ’, জেমস মিচেনারের ‘লিটল ওইমেন’ থেকে কিছু না কিছু পড়তাম। এবং চেলসির কাছে ‘গুডনাইট মুন’, ‘দ্য রানএওয়ে বানি’ এবং ‘কিউরিয়াস জর্জ’ পড়তাম যেগুলো ছিল তার প্রিয় বই। এরপর সে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ তৈরি করে নিয়েছে।

আপনার আজকের অবস্থানের পেছনে যদি একটি বইয়ের নাম বলতে হয় তাহলে সেটি কোনটি হবে?
হিলারি: উত্তরটা অনেকেরই কমন পড়তে পারে, এই ঝুকি নিয়েই বলছি আমার চিন্তা ভাবনায় বাইবেলের প্রভাব ছিল বেশি এবং সে প্রভাব এখনো রয়েছে। আমি এটা পড়তে পড়তে বড় হয়েছি, এটার কিছু কিছু অংশ মুখস্ত করেছি এবং এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছি।

আপনার বইয়ের শেলফে কোন বইগুলো দেখে আমরা অবাক হতে পারি?
হিলারি: আপনি রিপাবলিকানদের স্মৃতিকথাগুলো দেখে অবাক হতে পারেন। ওখানে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘ডিসিশন পয়েন্টস’ এবং সিনেটর জন ম্যাক কেইনের ‘ফেইথ অব মাই ফাদারস্’ দেখে অবাক হবেন!

সর্বশেষ কোন বইটা আপনাকে হাসিয়েছে?
হিলারি: স্টেফানি প্লিউমের ‘জেনেট ইভানোভিচ’ সিরিজগুলোতে তার ট্রেনটন অভিযানের গল্পগুলো আমাকে সবসময় হাসায়।

ধরুন, আপনি সাহিত্যিকদের জন্য একটি ডিনার পার্টির আয়োজন করলেন। কোন তিন লেখককে আমন্ত্রণ করবেন?
হিলারি: আমি লম্বা ডিনারের জন্য একজন অতিথিকে আমন্ত্রণ করবো: উইলিয়াম শেইক্সপিয়র। আমার এটা দেখার খুব আগ্রহ লোকটা আসলে কেমন ছিলেন এবং কিভাবে লিখলেন!

কোন বইটা এখনো না পড়ার কারণে লজ্জিত মনে করেন?
হিলারি: কতগুলো বই! এ কথা স্বীকার করি কি করে! এই যেমন একটা উদাহরণ দেই মার্সেল প্রাউস্ত এর ‘ইন সার্চ অব লস্ট টাইম’। এটা পড়ার জন্য এখনো সময় বের করতে পারি নাই।

-দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

10-books-hillary

 

Related Posts

About The Author

Add Comment