Letter to a Child Never Born- Oriana Fallaci

এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন পৃথিবীতে অনাগত শিশু, তার স্নেহময়ী মা একজন নিগুঢ় চিন্তার নারী। নারী জীবন নিয়ে তার যেমন গৌরব আছে তেমনি আবার ঘৃণাও আছে। যে নারী সমাজে টিকে থাকতে চেয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে, একজন মানুষের অধিকার নিয়ে। সমাজ তাকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তার সঙ্গী হিসেবে এক পুরুষের দেখা আমরা পাই যে তাকে ভালোবাসে, একসাথে বসবাস করে। এক পর্যায়ে সেই নারী উপলব্ধি করতে পারে সে সন্তানসম্ভবা। পুরুষ সঙ্গী তার এই সন্তান ত্যাগ করানোর জন্য চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়।  পেটের সন্তানের বয়স বাড়তে থাকে একপর্যায়ে এই নারীর লাইফস্টাইলে বিশৃঙ্খলা চলে আসে।

নিয়মিত মদপান করা, পার্টিতে যাওয়া, আড্ডা দেয়া অতিরিক্ত মাদকদ্রব্য গ্রহণ তাকে ক্রমাগতভাবে দূর্বল করে দিতে থাকে। সম্পর্কের টানাপোড়েন মানসিক চাপের মধ্যে তার জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে যা তাকে পৃথিবীর সব কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করে। পৃথিবীতে জন্ম নেয়া তার কাছে পাপের শামীল বলে মনে হয় একটা সময়। নিজেকে শেষ করে দেয়ার খেলায় মেতে ওঠে আবার শোধরাতে চায় নিজের ভবিষ্যত সন্তানের কথা ভেবে, মাতৃহৃদয়ের আকুতি তার মনে উঁকি দিতে চায় বারবার।

একজন নারী যে সমাজে কি অবস্থাগুলোর সম্মূখ্যীন হয় বা হতে পারে তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে তার অনুভুতি প্রকাশের মাধ্যমে।  তার জীবনে যে অভিজ্ঞতা তিনি দীর্ঘ জীবনে গ্রহণ করেছেন তা তিনি তার অনাগত সন্তানকে জানাতে চেয়েছেন। তার মনের অব্যক্ত ইচ্ছাগুলো তার সন্তানকে অবগত করার চেষ্টা করেছেন। এসব কিছুর মধ্যে আমরা একজন নারী জীবনের কিছু মর্মান্তিক দিকের পরিচয় পাবো। তাছাড়া বাস্তব জীবনে কিসব প্রতিকূলতা পেড়িয়ে একজন নারীকে চলতে হয় তা বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে এখানটায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই শিশুর জন্ম হয়নি, মাতৃগর্ভেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছিল বহু আগে। পুরো বইটি জুড়েই রয়েছে একজন নারীসত্ত্বার গভীর আবেগ-অনুভুতির মিশেল।

যে বিষয়টিতে চিন্তার ব্যাপকতা বেশী পেয়েছে সেটি হচ্ছে অনাগত কন্যাশিশু পৃথিবীতে আসলে তাকে কি কি সমস্যার সম্মূখ্যীন হতে হবে এবং সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য কি কি শিক্ষা তার নিতে হবে এসব বিষয় নিয়ে লেখিকার চমৎকার কল্পজগত মুগ্ধ করে দেয় পাঠক হৃদয়কে, এক চিন্তার জগতের মধ্যে তৈরী করে আরেক জগতের যেখানে মানুষ শুদ্ধ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করতে আগ্রহী হয়। মানুষকে আরেকটি বারের মতো মানুষ-অমানুষের ফারাক করে দিতে সচেষ্ট হয়। আহবান জানায় মানবতার মহাসমুদ্রে।

জীব জগতের পরিচয় দিতে একজন মানুষের একবারই জন্ম হয়, কিন্তু মনুষ্যত্ব অর্জনের পথে মানুষকে বারবার নতুন রুপে জন্ম নিতে হয়। এক্ষেত্রে আমি ব্যক্তিগতভাবে দুইটি মানুষের কথা একান্তভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই প্রথমজন হলেন বিশ্ববরেণ্য লেখক টনি মরিসন তার লেখা বইয়ের নাম – The Bluest Eye  এবং ওরিয়ানা ফাল্লাচি। কারন তাদের এই বই দুইটি আমাকে পুরোপুরি নতুন চিন্তার জগতে জন্ম নিতে সাহায্য করেছে। ওরিয়ানা ফাল্লাচির চিন্তার মৌলিকতা পুরো পৃথিবীর সাহিত্যবোদ্ধাদের নাড়া দেয়ার মতো। তার প্রকাশভঙ্গী সম্পূর্ণ আলাদা। পড়াশোনায় মাদকতা তৈরী করার মতো বেশ কিছু লেখার জন্ম দিয়েছেন লেখিকা ফাল্লাচি। সাংবাদিক হিসেবে তিনি পুরো ইতালীর কাছে একজন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। কিন্তু লেখিকা হিসেবে তিনি যে অবদান রেখেছেন এর জন্য তিনি পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত।

 

Alamin Howlader

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাবি
অক্টোবর, ২০১৬

Related Posts

About The Author

Add Comment