4 Reasons Why Dream Fails

“What is the secret behind huge success? The one and only honest answer is ‘I don’t know’. But we all need to be aware of our personal calling. What is a personal calling? It is God’s blessing, it is the path that God chose for you here on earth. Whenever we do something that fills us with enthusiasm, we are following our calling”.

এখানে দুটি বিষয় স্পষ্ট নয়। প্রথমত, বৃহৎ কোন সাফল্য যদি আমাদের থেকে থাকে, তাহলে এর পিছনের কারণও আমাদের জানা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তাহলে আমি কিছু জানি না, এটা কিভাবে সৎ উত্তর হয়? দ্বিতীয়ত, পার্সোনাল কলিং। পার্সোনাল কলিং এর আক্ষরিক অনুবাদ অনেকটা ‘নিজেকে জিজ্ঞেস করা’। কিন্তু এই অনুবাদ পার্সোনাল কলিং-এর সঠিক অর্থ প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট নয়। আক্ষরিক অনুবাদের পাশাপাশি আমাদের ভাবানুবাদটাও বুঝতে হবে। তাহলেই কোন কিছুর অন্তর্নিহিত অর্থ আমাদের জানা সহজ হবে।

মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। স্বপ্ন যতো বড় হবে, সাফল্যেও ততো বড় হবে। কিছু করার মাঝেই জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আমাদের জীবনের গতানুগতিক যে নিয়ম, তা আমাদের শুধু ধোঁকাই দেয় না, বরং জীবনের অর্থকে নিরর্থক করে তুলে। পড়াশুনা করলাম, চাকরি করলাম আর মরে গেলাম, এই জীবনের কোন স্বাদ আছে? সার্থকতা আছে? সবসময় ব্যতিক্রম হবার চেষ্টা করতে হবে। প্রথম হবার চেষ্টা করতে হবে। কিছু করার তাড়না থাকতে হবে। তাহলেই পৃথিবী আমাদের মনে রাখবে। আয়ু শেষ হয়ে গেলে জীবনের গল্পটাও শেষ হয়ে যায়, কেউ মনে রাখে না। যদি জিজ্ঞেস করা হয় প্রথম কে চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিলেন, তাহলে নির্দ্বিধায় চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় নীল আর্মস্ট্রং। কিন্তু যদি জিজ্ঞেস করা হয়, এরপর কে পা রেখেছিলেন? ভাবতে হবে! কিংবা যদি জিজ্ঞেস করা হয় চাঁদ জয় করার অভিযানে কতজন ছিলেন? উত্তর জানা থাকতে পারে, ৩ জন। কিন্তু নামগুলো নয়। নীল আর্মস্ট্রং এর পর আরও ১২ জন (২০১০-১১ এর হিসেবে) চাঁদ জয় করেছেন। কিন্তু এদের ইতিহাস কেউ মনে রাখে নি, কিন্তু তাদের সাফল্যকে পাশ কাটানোর কোন সুযোগ নেই।

সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে বড় যে জিনিস বা কারিগর, তা হচ্ছে স্বপ্ন। স্বপ্ন আবার দুই প্রকার। এক. যা আমরা ঘুমের মাঝে দেখি, দুই. যা আমাদের ঘুমুতে দেয় না। আর যা ঘুমুতে দেয় না, প্রকৃতপক্ষে সেটাই স্বপ্ন। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন কি আদো পূরণ হয়? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে তার পেছনে ৪টি দার্শনিক কারণ রয়েছে।

  1. We are told from childhood onward that everything we want to do is impossible.

এই ধারণা নিয়েই আমরা ক্রমশ বড় হতে থাকি। ছোটবেলায় বড়রা প্রায় আমাদের বলেন, তুমি এটা করতে পারবে না, ওটা করতে পারবে না। এটা কঠিন, তুমি বরং সহজটাই করো। কিন্তু আদতে তারা জানেন না, আমাদের কতো বড় ক্ষতি তাদের অজান্তেই হয়ে যাচ্ছে। আমরা তখন পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ি। একসময় আমাদের মনে ধারণা জন্মে ভয় এবং অপরাধবোধের। স্বপ্ন পূরণের পথে এক সময় আমরা সবই বুঝতে পারি। তখন মনের সাথে বিশ্বযুদ্ধ না হলেও ছোটখাটো একটা যুদ্ধ বাঁধে। আর ছোটবেলায় শিখিয়ে দেয়া কালেমাই সর্বদা জয়ী হয়। কেননা আমরা আবেগে ভুগি। আমাদের পিছুটান কাজ করে। জয় হয়তো আর দু’কদম সামনেই, কিন্তু ভয়কে জয় করার শক্তি ততোক্ষণে নিঃশেষ হয়ে যায়। যখন আমরা এই বাল্যকালের এই বুলিকে পাশ কাটাই, তখনই দ্বিতীয় বাঁধা দুয়ারে কড়া নাড়ে।

  1. Love

ভালোবাসা। ভালোবাসা যেমন একটা শক্তি, তেমনি একটা আবেগ, একটা লুকানো ভয়। স্বপ্ন পূরণের পথে পা বাড়াই তখনই, যখন আমি জানি আমার স্বপ্ন কি। কিছু পেত হলে ত্যাগ স্বীকার তো করতেই হবে। সেই ত্যাগে যদি ভালোবাসা থাকে? যদি ভালোবাসার মানুষটা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়? আদো কি তাকে ভালোবাসা বলা যাবে? ইংরেজি তে একটা কথা আছে, “No risk, no gain”। জীবনে ঝুঁকি তো নিতেই হয়, কিন্তু কিছু ভালোবাসা আছে, যা ঝুঁকি নেয়ার ঝুঁকি নিতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা হয়তো সহজে তা উৎরাতে পারি না। কেননা, আমরা ভীত, যদি ভালোবাসার মানুষকে অজান্তেই কষ্ট দিয়ে ফেলি? আবার পিছপা হই। যারপরনাই স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যায়। আর ভালোবাসা যখন আমাদের তাড়না দেয় কিছু করার, তৃতীয় বাঁধা তখন সামনে এসে দাঁড়ায়।

  1. Fear of the defeats we will meet on path

হোঁচট না খেয়ে কি হাঁটা শেখা যায়? কিন্তু এই হোঁচট খাওয়ার ভয়ে যদি হাঁটতেই না চাই? চলতি পথে বাঁধা আসবে, এটাই স্বাভাবিক। দমে গেলে চলবে না যদি হাঁটতে চাই। স্বপ্ন পূরণও এটাই। পথের বাঁকে বাঁকে বাঁধা আসবে, বিপত্তি ঘটবে। তাই বলে থেমে যাওয়া চলবে না। যদি পথে চলতে ভয় পাই, তার মানে তো এটাই, আমার স্বপ্নের পরিধি খুব বড় নয় কিংবা আমি আমার স্বপ্নকে ভালোবাসি না। যে স্বপ্নকে ভালোবাসে, সে কখনো দমে যায় না। পড়ে গিয়ে আবার হাঁটতে শেখে।

  1. The fear of realizing the dream for which we have been fighting all our lives

সমস্ত জীবন যে স্বপ্ন আমরা লালন করি, সেটা বুঝতে গিয়েই আমাদের এক ভয় কাজ করে। মাঝে মাঝে আমাদের এটাও শেখানো যে, বড় স্বপ্ন দেখতে নেই। সেটা কখনো পূরণ হয় না। আমি এটাকেই সবচেয়ে বড় বাঁধা বলবো। ভীতুরা কখনো জয়ী হতে পারে না। আর কি করবো সেটা নিয়েই যদি আমাদের সন্দেহ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। অর্ধেক না পারা হয়ে গিয়েছে এখানেই। স্বপ্ন সবসময় বড় হতে হয়। তাতে অন্তত ন্যূনতম কিছু পাওয়া যাবে। কিন্তু স্বপ্ন যদি ছোট হয়, সেখানে পাওয়ার আর কিছুই থাকে না।

মানুষের সহজাত কিছু ধর্ম আছে। কিছু সহজাত বাঁধা প্রতিনিয়তই আমাদের পথে মোকাবেলা করতে হয়। বাঁধা তো আসবেই। যদি স্বপ্নের পথে বাঁধা আসে, তার মানে এই যে, আমি সঠিক রাস্তায় আছি। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতাও থাকতে পারে। এই সীমাবদ্ধতাকে যারা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে; যারা আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে; ভয়কে জয় করতে পারে; বাঁধাকে তাসের ঘরের ন্যায় উড়িয়ে দিতে জানে; সফল তো তারাই।

আরেকটা কথা হচ্ছে, আমরা নিজেরাই নিজেদের স্বপ্ন, ভালোবাসা- নিজের পায়েই ঠেলে দূরে সরিয়ে দেই। অস্কার ওয়াইল্ড-এর ভাষায় “Each man kills the thing he loves”.

ভালোবাসাকে ভালোবাসতে হবে, স্বপ্নকে জয় করতে হবে। এটাই হওয়া উচিত আমাদের পণ। আর সেই পণের পানে ছুটে চলা, স্বপ্নকে তার পূর্ণ রূপ দেয়া, পরিণয়কে পরিণতিতে রূপান্তর করা, তাহলেই হব সফলকাম। এটাই সাফল্যের এক এবং একমাত্র উত্তর।

Related Posts

About The Author

Add Comment